ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানির শেষ দিনে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
এরআগে “বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৪শত কোটি টাকা ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ” এই শিরোনামে বিডি২৪লাইভ ডট কম সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে উঠে আসে বিএনপির প্রার্থীর ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ।
আপিলে অভিযোগ করা হয়, সরোয়ার আলমগীর তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নিজের আর্থিক দায়, বিশেষ করে ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন। নির্বাচন আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ঋণ খেলাপি হলে অথবা হলফনামায় মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে তার মনোনয়ন বাতিলযোগ্য বলে উল্লেখ রয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, আগ্রাবাদ শাখা থেকে ২০১ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এই টাকা তিনি পরিশোধ করেননি। আর খেলাপি ঋণের বিপরীতে তিনি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এবারের সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি হওয়া বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যাংকগুলো যেন প্রকৃত তথ্য দেয়, সে বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী ইসমাইল গণি বলেন, ‘সরোয়ার আলমগীর সাহেবের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির তথ্য আমাদের হাতে আসে। কিন্তু তিনি হলফনামায় এর খুব সামান্য অংশ দেখিয়েছেন। অধিকাংশ তথ্যই গোপন করেছেন। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছিলাম। আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। ’ অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংক আপিল আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে কমিশন ওই আপিলগুলো খারিজ করে তার প্রার্থিতা বহাল রাখে।
ইসি সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরী ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ছিলেন এবং অন্য দুটি ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রে তিনি জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩০০ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করেন। এ সময় ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ২০ জানুয়ারি। পরদিন ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। সবশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);