রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা।
জানা গেছে, সোমবার অবস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গ্রাহক ফোরামের পাঁচজন গুরুতরসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও ২৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রায় ৫৫ জন আহত হওয়ার কথা জানা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে অবস্থান নেন। পরে মিছিল নিয়ে তারা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এদিকে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, “ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অশুভ তৎপরতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চলমান থাকবে।”
তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি।
নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক।
আমার বাঙলা/ রাব্বি