ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য কুকুর। এতে চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দলবেঁধে কুকুর রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় অনেক সময় পথচারীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের পেছনে কুকুর ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে, বাজার ও আবাসিক এলাকার আশপাশে দলবদ্ধভাবে কুকুর অবস্থান করছে। খাবারের সন্ধানে এসব কুকুর বাজার ও আবাসিক এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা ও উন্মুক্ত বর্জ্যস্তূপ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
পথচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে ঈশ্বরদী পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে দিন দিন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সন্ধ্যার পর শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তায় দলবেঁধে কুকুর থাকলে অনেক সময় আমাদেরও দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।”
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। পৌরসভা কার্যকর উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”
তবে কুকুর নিধন আইনগত ও মানবিক—কোনো দিক থেকেই টেকসই সমাধান নয়। এর পরিবর্তে বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনা, বন্ধ্যাকরণ (CNVR) কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক কুকুর শনাক্তকরণ এবং শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৩ সালেও ঈশ্বরদীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তখনও কুকুর নিধনের পরিবর্তে টিকাদানসহ মানবিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে দ্রুত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।
পৌরবাসীর প্রশ্ন—নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, কুকুর নিধন নয়; বরং মানবিক ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান এবং পরিচ্ছন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌরবাসীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর প্রশাসক ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি