দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি, প্রায় পাহাড়সম কয়লা মজুদ রয়েছে। তবে কয়লার কোনো সংকট না থাকলেও ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কারিগরি ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ইউনিটে মোট ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও শুরু থেকেই কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিটের ১২৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ২৭৫ মেগাওয়াট।
কারিগরি ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি অচল রয়েছে। বর্তমানে ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট সচল থাকলেও সেগুলোও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারিগরি সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট থেকে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই দুই ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কয়লাখনির কোল ইয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সচল ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট থেকে মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২২৫ মেগাওয়াট। কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে ইউনিট দুটিতে পূর্ণমাত্রায় টারবাইনে লোড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে পুরোনো ইউনিটটি অতিরিক্ত লোড নিলে আবারও বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বর্তমানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, সেটিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রটির ৫২৫ মেগাওয়াট পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার তুলনায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। ফলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে কয়লার সংকট নেই। বরং কারিগরি ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটে ৫৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ড ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোল ইয়ার্ড—দুই জায়গা মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে বর্তমানে কয়লার কোনো ঘাটতি নেই।
আমার বাঙলা/ রাব্বি