সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সমর্থন চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)।
লোহিত সাগরের নিকটবর্তী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণকারী দেশ মিসর। গত মঙ্গলবার কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন সৌদি যুবরাজ। বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও আলাদা বিবৃতিতে সৌদির প্রতি অবিচল সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বা সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে দুই পক্ষই স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কায়রোর পক্ষ থেকে রিয়াদকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। গত তিন বছর ধরে আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে মিসর এবং ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গেও দেশটি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।
সৌদির বিপাক ও বিকল্প পথ: ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি ইয়েমেনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ায় তেল রপ্তানি নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব। এতদিন ধরে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযানে যায়নি রিয়াদ; কারণ গোষ্ঠীটির পাল্টা আক্রমণে নিজেদের তেল স্থাপনাগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদিকে হয় সামরিক অভিযান জোরদার করতে হবে, নতুবা কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে—এমন এক কঠিন মোড়লতিতে পড়েছে দেশটি।
এদিকে সৌদির প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও এই মুহূর্তে বেশ অনিশ্চিত। ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেসের’ জ্যেষ্ঠ ফেলো এইচ এ হেলিয়ার মন্তব্য করেছেন, এমবিএস কায়রোর কাছে সরাসরি কোনো সেনা সহায়তা চাইবেন না, কারণ তিনি নিজেও জানেন এ ধরনের অনুরোধ রাখা কায়রোর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে সেনার পরিবর্তে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে রিয়াদকে সাহায্য করতে পারে কায়রো।
জোট গঠনে সতর্কতা ও অতীতের অভিজ্ঞতা: হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ২০১৫ সালে সৌদি যুবরাজের গড়া জোটটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পরবর্তীতে ভেঙে যায়। ফলে ইয়েমেনের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে বর্তমানে অনেক দেশই সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন করে জোটে কাজ করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের এই সংকট উত্তরণে সৌদি আরব নতুন কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও তাতে কতটি দেশ শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আমার বাঙলা/রাজীব