‘আমি এহন খেলা দেহুম কী দিয়া? বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাপোর্টার আমি। সাপোর্টার অইলে কী করণ যাইবো, খেলা যদি সামনে আইয়ে? টিভি থাকবো চইল্যা (চালু), আমার থাহুন লাগবো চোখ বুনজাইয়া (বন্ধ করে)। কারণ অইলো আমার তো পেড ভাত নাই। আমি কী দিয়া খেলা দেহুমু? খেলা দেহুনের লাইগা মনের মধ্যে আর কোনো উৎসাহ নাই। যে আনন্দডা দিয়া (বোরো ধান) আমরা খেলা দেখতাম, এইডা কালবৈশাখে ভাসায়া লইয়া গেছে গা। আমরাতো অহন বেউপায় (নিরুপায়)।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে হাওরের ডুবে যাওয়া জমির সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা চার সন্তানের জনক কৃষক সিরাজ মিয়া (৫১)।
সিরাজ মিয়া বলেন, ‘আমি প্রায় ২৫-৩০ বছর ধইরা ব্রাজিলের সাপোর্ট করি। ব্রাজিলতো পাঁচবার বিশ্বকাপ নিছে। পেলেরেও চিনতাম, রোনালদোরেও চিনতাম। আমরা গরিব মানুষ, অত নাম-টাম জানি না। যহন ব্রাজিলের খেলা অইতো, তখন বড় আগ্রহ লইয়া খেলা দেখতাম। আমি সবসময় ব্রাজিলের গঞ্জি পরি। চাষের কাজ করলেও হলুদ গঞ্জিই পরি। আমি ব্রাজিলের বড় ভক্ত।’
ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তিপুরের মাইনষ্যের মনে অহন আর শান্তি নাই, কালবৈশাখে সব শান্তি কাইড়া নিছে। বিশ্বকাপ থাকবো কিন্তু আমরা দেহুম কেমনে? আগেতো ধান তুলতাম, ঘরে ভাত থাকত। তখন আরাম কইরা খেলা দেখতাম। কেউ বড় টিভি কিনলে হেইখানেও যাইয়া খেলা দেখতাম। অহন তো নিজের ভাত জোগাড় করতেই কষ্ট, খেলা দেখমু কোন সময়?’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে কিশোরগঞ্জে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিন দিন তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ আরও বাড়ছে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে হতাশা ও হাহাকার বিরাজ করছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);