ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের ইন্সপেক্টর জেনারেল। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে মার্কিন বাহিনী। ৩০ জুন পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ওয়াশিংটনের আনুমানিক ৩৩৪০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গোলাবারুদ ব্যবহারের পেছনেই খরচ হয়েছে প্রায় ২২৩০ কোটি ডলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরও ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পেন্টাগনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মার্কিন সেনার কৌশলগত মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সহজ হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের ঘাটতির খবর অস্বীকার করেছিলেন। তবে এবার তার প্রশাসনেরই একটি প্রতিবেদনে কংগ্রেসের সামনে এ বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হলো।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন সামরিক বহরের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে দূরপাল্লার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পেন্টাগনের সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, মার্কিন বাহিনী তাদের মজুত করা থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করেছে।
আমার বাঙলা/রাজীব