ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই যোদ্ধাদের চেতনায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে ইনশাল্লাহ সরকার গঠন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তফজ্জল আলী কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার আরোও বলেন, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতির মাধ্যমে কোনো দেশেই জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে কিংবা চাঁদার জন্য পাথর নিক্ষেপ করে প্রাণ কেড়ে নেয়, তাদের হাতে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা কখনোই নিরাপদ নয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে—দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে তারা ঘরছাড়া হবে বা ধর্মীয় পরিচয় বিপন্ন হবে। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দাবি করে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তারা কেউই জনগণের আস্থা রক্ষা করতে পারেনি। প্রতিটি শাসনামলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দমন-পীড়নের রাজনীতি হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলনের বহু নেতা-কর্মী হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংসকারীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ১১ দলীয় জোটের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল, জুলাই যোদ্ধাদের এনসিপি এবং মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন এলডিপিসহ মোট ১১টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আতাউর রহমান সরকার।
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় হাসপাতালের উন্নয়ন, গ্যাস লাইনের সম্প্রসারণ করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ সত্ত্বেও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় প্রমাণ করে দিয়েছে—দাঁড়িপাল্লাই পরিবর্তনের প্রতীক। ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার চাইলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার। ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং আখাউড়া উপজেলা আমীর ইকবাল হোসেন ভুইয়া ও কসবা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শিবলী নোমানীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সাত্তার, জেলা আমীর মোবারক হোসেন আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আতাউল্লাহসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই তফজ্জল আলী কলেজ মাঠে হাজার হাজার ভোটার, কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে একসময় এটি বিশাল মহাসমাবেশে পরিণত হয়।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);