বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। এই প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হলেও, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনে এটি আইনে রূপান্তরিত না হলে অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা লুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন সেমিনারে উপস্থিত বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা।
উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর উদ্যোগে রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে “তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন—পরবর্তী করণীয়” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মোঃ আখতারউজ-জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, তামাক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি বিভিন্ন মাদক ব্যবহারের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি বড় অর্জন এবং এই অর্জন ধরে রাখতে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ মোমেনা মনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ধূমপায়ীরা যেন আবেদন করতে না পারে এমন নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধূমপানমুক্ত করা সম্ভব হবে।
রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যারাই নতুন সরকার গঠন করুক না কেন তাদের কাছে আমাদের দাবি থাকবে এই অধ্যাদেশ যেন দ্রুত আইনে পাশ করা হয়।
ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন তার বক্তব্যে বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরিত করার জন্য তার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মোঃ আখতারউজ-জামান বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরিত করা না হলে এই অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই নির্বাচিত সরকারের প্রথম অধিবেশনেই এটি আইনে পরিণত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ আইনে রূপান্তরিত না হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের পিছিয়ে পড়ার শামিল হবে। একই সঙ্গে তামাক শিল্পের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও প্রভাব মোকাবিলায় শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs), বিশেষ করে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারবে।
সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্ধারক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক, সাংবাদিক ও তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);