কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তি। পড়াশোনা, লেখালেখি, প্রোগ্রামিংসহ দৈনন্দিন নানা কাজে এটি মানুষের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এআই ব্যবহার করেছিল—এমন খবর সামনে আসার পর চ্যাটজিপিটি আসলে কোন ধরনের বিষয়ে সাহায্য করে না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্য চ্যাটজিপিটির কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
অপরাধ ও সহিংসতা সংক্রান্ত তথ্য
চ্যাটজিপিটি এমন কোনো নির্দেশনা দেয় না যা সরাসরি মানুষের ক্ষতি করতে পারে। যেমন—কাউকে আঘাত বা হত্যা করার উপায়, লাশ গোপন করা, চুরি-ডাকাতির কৌশল কিংবা বোমা বা অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি—এসব বিষয়ে এটি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর কাজ
শুধু অপরাধ নয়, বিপজ্জনক কাজ সম্পর্কেও চ্যাটজিপিটি সতর্ক অবস্থানে থাকে। আত্মহানির পদ্ধতি, বিষ তৈরি বা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ব্যবহারের নির্দেশনা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য—এসব ক্ষেত্রে এটি সরাসরি নির্দেশনা না দিয়ে সতর্কবার্তা দেয় বা বিকল্প পরামর্শ দেয়।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায়ও চ্যাটজিপিটি কঠোর। কারও ফোন নম্বর, ঠিকানা, ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য এটি শেয়ার করে না।
ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য
ভুয়া খবর তৈরি, মিথ্যা অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মতো কাজে সহায়তা করে না এই এআই। তথ্যের অপব্যবহার ঠেকানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।
রাজনৈতিক অপব্যবহার
নির্দিষ্ট ভোটারদের প্রভাবিত করা বা বিভ্রান্তিমূলক রাজনৈতিক প্রচারণা তৈরির ক্ষেত্রেও চ্যাটজিপিটি নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে এবং এ ধরনের অনুরোধ এড়িয়ে যায়।
এই সীমাবদ্ধতার কারণ কী?
চ্যাটজিপিটি সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না—এটি ইচ্ছাকৃত। এর লক্ষ্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা। নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এসব সীমাবদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য।
তাহলে বিতর্ক কেন?
সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এআই কি অপরাধে সহায়তা করছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে তথ্য নেয় বা সাধারণ তথ্যকে অপব্যবহার করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সংবাদেও বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের মত, চ্যাটজিপিটি একটি প্রযুক্তিগত টুল—এটি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। ব্যবহারকারীর ইনপুট অনুযায়ী কাজ করে। তাই এআই ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);