গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষ। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলার ছোটশিমুলতলা পানহাটি এলাকা। আতঙ্কে ছুটোছুটি করেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেশীয় অস্ত্র হাতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পলাশবাড়ি পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটিতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পানহাটির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পানহাটির আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের দিকবিদিক ছুটে পালাতে দেখা যায়।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছোটশিমুলতলা পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ি-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতে হাসুয়া, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে পানহাটির ভেতরে থাকা দুটি গাছ ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া কয়েকটি পানের দোকানের ছাউনি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান বলেন, “পানহাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, একই পানহাটির আধিপত্য নিয়ে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোড়া ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল গুরুতর আহত হন। পরে গত ৩০ মে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সামিউলের মৃত্যুর জন্য জামায়াত নেতাকর্মীরা বিএনপিকে দায়ী করলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পলাশবাড়ি থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে পানহাটিকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);