কক্সবাজারে সদ্য ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের অনুগত নেতা-কর্মীদের কাউকেই এই কমিটিতে রাখা হয়নি। বাদ পড়া নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে, ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে অনলাইন দুনিয়া। একের পর এক পোস্টে তারা তাদের হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন।
এই অসন্তোষকে কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার এনসিপি নেতারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের তাদের দলে যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাইফুর রহমান নয়ন ফেসবুকে লেখেন, ‘জেলা ছাত্রদলে যারা দায়িত্বে এসেছেন তাদের কোনো দোষ নেই। কষ্ট নিয়ে হলেও অন্তত অভিনন্দন জানাতে হয়।’
তবে ক্ষোভ চাপতে পারেননি তিনি। লেখেন, ‘আমার কি কোনো শ্রম ছিল না- এভাবে মূল্যায়ন পাওয়ার জন্য? লুৎফুর রহমান কাজল এমপি ভাইয়ের অনুসারী হয়ে ছাত্রদল করেছি, অথচ আজ জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়লাম। তাহলে কি আমাদের ত্যাগ, পরিশ্রম, সময়- সবই মূল্যহীন?’
তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নয়ন লেখেন, ‘মিছিলের শেষের ছেলেটাও একসময় জায়গা পায়, কিন্তু শুরু থেকে থাকা মানুষের আজ কোনো কূল-কিনারা নেই।’
আরেক পদপ্রত্যাশী আল আমিন লেখেন, ‘লুৎফুর রহমান কাজল এমপির অনুসারী হওয়ার কারণে একটি পুরো ত্যাগী ও নির্যাতিত ব্যাচকে বাদ দেওয়া হলো। এটা সবার জন্য শিক্ষা।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রুপিং আছে সিনিয়র বিএনপি নেতাদের মধ্যে, কিন্তু এই গ্রুপিংয়ের অপপ্রয়োগ করা হলো আমাদের মতো মাঠে-ময়দানে আন্দোলন করা ছোট ভাই ও সন্তানদের বিরুদ্ধে।’
আরেক পদপ্রত্যাশী আবু বক্কর ছিদ্দিকি লেখেন, ‘ক্ষমতার দাম্ভিকতা আর কত? উপরে একজন আল্লাহ আছেন- এটা ভুলে গেলে কি হবে?’
আরেকজন লেখেন, ‘ও আল্লাহ ও আল্লাহ তোমার কাছে বিচার দিলাম।’
আব্দু রহমান বাবু লেখেন, ‘নিজের কাছে অপরাধী।’
আরেকজন লেখেন, ‘ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই তৎপরতা এবং ক্ষুব্ধ নেতাদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ কক্সবাজারের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ক্ষুব্ধ নেতারা শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু ও ঈদগাঁও) আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে মন্তব্য করতে চাইনা।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফাহিমুর রহমানকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয়জনের একটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
শনিবার (২ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আংশিক কমিটিতে মোহাম্মদ হোসেন মাদুকে সিনিয়র সহসভাপতি, মোহাম্মদ জাহেদ নুর জিতুকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মুহাম্মাদ সালমান বাপ্পিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আশরাফ ইমরানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট সর্বশেষ কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই কমিটিতে শাহাদাত হোসাইন রিপনকে সভাপতি ও ফাহিমুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৫ আগষ্ট ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);