বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও সম্মান রক্ষার শেষ সুযোগ এখনো আছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে মরিয়া দুই দলই। তবে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসে কিছুটা এগিয়ে রাখা হয়েছে ফ্রান্সকে।
শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
অনেকের কাছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কেবল আনুষ্ঠানিকতা হলেও ফ্রান্সের জন্য এর গুরুত্ব অনেক বেশি। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে এটিই দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ১৪ বছরে তিনি ফরাসি ফুটবলকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স, ২০২২ সালে খেলেছে ফাইনাল এবং এবারও পৌঁছেছে সেমিফাইনালে।
টুর্নামেন্ট চলাকালেই ব্যক্তিগত জীবনে মাকে হারানোর শোক সঙ্গী হলেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি দেশম। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়েই কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানতে চান এই অভিজ্ঞ কোচ।
ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি বর্তমানে লিওনেল মেসির সমান আট গোল করেছেন। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন মেসি, যেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারলে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে তার। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় মেসিকে স্পর্শ বা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ার সম্ভাবনাও আছে তার সামনে।
অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবার লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা এবং বিশ্বকাপ জেতা। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েই শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।
একই ধরনের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন দেশমও। তার মতে, ফ্রান্স যে অবস্থানে থাকতে চেয়েছিল, সেখানে নেই। এটি দলের প্রত্যাশা ছিল না। হতাশা থাকলেও মাঠে নেমে দায়িত্ব পালন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্বকাপে এবার দুই দলের পথচলাই ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এরপর সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে বিদায় জানিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ইংল্যান্ডও শক্তিশালী পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়, ঘানার সঙ্গে ড্র এবং পানামাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। এরপর ডিআর কঙ্গো, মেক্সিকো ও নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় টুখেলের শিষ্যদের।
এদিকে অপ্টার সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে করা পূর্বাভাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫০.৭ শতাংশ। ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৫.৬ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৭ শতাংশ।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম দুই সাক্ষাতে ১৯৬৬ ও ১৯৮২ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের সর্বশেষ নয় দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র একবার। বিপরীতে ফ্রান্সের জয় ছয়টি, আর দুটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
ম্যাচের আগে দুই দলই কিছুটা চোট সমস্যায় ভুগছে। ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা ও ব্রিস সাম্বা ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না। ইংল্যান্ড দলে নেই জর্ডান হেন্ডারসন, আর রিস জেমসকে নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। শিরোপার লড়াই শেষ হওয়ায় দুই দলই একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকায় এমবাপ্পের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামও ব্যক্তিগত অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেন।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);