রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা ওয়াসা থেকে ২৬টি খাল আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে এখনো একটি খালও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বরং খালের অব্যবস্থাপনায় বেড়েছে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি।
তৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পুনঃখনন, পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, পাড় বাঁধাই, সবুজায়ন এবং ওয়াকওয়ে ও সাইকেল লেন নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
ঢাকার খাল ও নালার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর হাতে। আগে ওয়াসা প্রায় ৮০ কিলোমিটার খাল, ৩৮৫ কিলোমিটার বড় নালা এবং চারটি পাম্প স্টেশন পরিচালনা করত। বর্তমানে সিটি করপোরেশনগুলো প্রায় ২ হাজার ২১১ কিলোমিটার নালার দেখভাল করছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ওয়াসা থেকে হস্তান্তর করা ২৬টি খালের বাইরে আরও কয়েকটি খাল দুই সিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতায় রয়েছে জিরানী, বাসাবো, কদমতলা, খিলগাঁও বাগিচা, মান্ডা, কাজলাপাড়, শ্যামপুর, তিতাস, উত্তর কুতুবখালী, মৃধাবাড়ী, মাতুয়াইল, ডিএনডি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক খাল। অন্যদিকে ডিএনসিসির আওতায় রয়েছে কাঁটাসুর, রামচন্দ্রপুর, কল্যাণপুর, রূপনগর, মিরপুর দিয়াবাড়ি, ইব্রাহিমপুর, বাউনিয়া, বাইশটেকী, সাংবাদিক কলোনি, আবদুল্লাহপুর, দ্বিগুণ, বেগুনবাড়ী, শাহজাদপুর, সুতিভোলা, কসাইবাড়ী, মহাখালী, ডুমনি, উত্তরা দিয়াবাড়ি, বোয়ালিয়া, গোবিন্দপুর ও নরাইল খাল।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, খালগুলো শুধু এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থায় হস্তান্তর হয়েছে—বাস্তব উন্নয়ন হয়নি। সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্তকরণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে নগরবাসীর জীবনে পড়েছে। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিতে জুরাইন, পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, রামপুরা, মালিবাগ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই পানি জমে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় এবং নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। টানা বৃষ্টিতে নালা, ডোবা ও মরা খালগুলো আগে থেকেই পানিতে পূর্ণ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই এ অবস্থা। তার মতে, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত না করলে ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এখনো কার্যক্রম মূলত খাল পরিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো খাল পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে চারটি খাল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্য খালগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);