কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী শাকিল (২৮) অবশেষে লাশ হয়ে ফিরলেন নিজ বাড়িতে।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে ভোর ৫টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং এম্বুলেন্স দিয়ে মরদেহটি কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে আনা হয়।
মৃতের চাচা বুকুল মেম্বার জানান, ২০১৯ সালে অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি তার মা ও ফুফুকে বলেন, আমি খুব কষ্টে আছি। শরীর শুকিয়ে গেছে। জেলের খাবার খেতে পারি না। আমাকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে নিয়ে যান।
স্বজনদের দাবি, গত ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফের নজরে আনা হলে তিনি প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না। সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের জন্য সহযোগিতা চাই।
শাকিলের ফুফু মোছা. চায়না বেগম জানান, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে তার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);