চুক্তি মোতাবেক বকেয়া ও চলমান হালনাগাদ জাহাজের ডেমারেজ প্রদান এবং সরকার প্রণীত নৌ-পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জাহাজ মালিকবৃন্দ। আজ সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জাহাজ মালিকবৃন্দ এই দাবি জানান।
তারা বলেন, বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে নৌ-পরিবহন খাত। বিশেষত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহির্নোঙর হতে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও গুদামসমূহে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কলকারখানার কাঁচামাল, খাদ্যশস্য, কয়লা, সার, ক্লিংকারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা এই খাতের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। নৌ-পরিবহন খাত শুধুমাত্র জাহাজ মালিকদের ব্যবসা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্পকারখানা, খাদ্য সরবরাহ ও জাতীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
এই খাত ধ্বংস হলে দেশের শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়বে। তাই জাতীয় স্বার্থে উপরোক্ত বিষয়সমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে লাইটার জাহাজ খাত ভয়াবহ সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত। দীর্ঘদিন ধরে নৌ-পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া, বৈষম্যমূলকভাবে জাহাজ পরিচালনা, এক সিরিয়ালে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না হওয়া, ডেমারেজ কার্যকর না থাকা, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, ঘাট বার্থিং-এর নামে চাঁদাবাজি, নৌ-ডাকাতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন চার্টার বাণিজ্যের কারণে অসংখ্য জাহাজ মালিক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ইতোমধ্যে বহু জাহাজ মালিক বাধ্য হয়ে তাদের জাহাজ বিক্রি বা কেটে ফেলেছেন। ফলে হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বহির্নোঙর হতে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ১ কেজি গম পরিবহনে জাহাজ মালিক মাত্র প্রায় ৫৫ পয়সা ভাড়া পেয়ে থাকেন, অথচ একই গম বাজারে বিক্রি হয় প্রায় ৫৫ টাকা কেজি দরে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক মজুরি, ব্যাংক সুদ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও জাহাজ ভাড়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সমন্বয় করা হয়নি।
এমতাবস্থায়, দেশের নৌ-পরিবহন খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা, জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং নৌ-পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য তারা সদয় ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন:
১। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (BWTCC)-এর বকেয়া ও চলমান (Running) ডেমারেজ প্রদানের জন্য চলতি সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২। সরকার প্রণীত গেজেট “নৌ নীতিমালা-২০২৪” এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩। জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম বানিয়ে আমদানিকারকদের মূল্য বৃদ্ধির অপচেষ্টা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।
৪। “এক সিরিয়ালে জাহাজ চলাচল” নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়ন করে সকল জাহাজের জন্য বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৫। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল রুটে বর্ধিত ও গ্রহণযোগ্য জাহাজ ভাড়া অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৬। তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ভারত প্রোটোকল রুটে চলাচলরত জাহাজের পণ্যের ভাড়া সমন্বয় করতে হবে।
৭। কোনো অবস্থাতেই BWTCC-এর অনুমোদন/ছাড়পত্র ব্যতীত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহির্নোঙরে আগত মাদার ভেসেল হতে কোনো লাইটার জাহাজে পণ্য বোঝাই বা খালাস করতে না দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
৮। ঘাট বার্থিং-এর নামে চাঁদাবাজি, অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট কার্যক্রম বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
৯। নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১০। BWTCC-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, এজেন্ট, স্টিভেডর, চার্টারার ও অপারেটরদের ওপর কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);