বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া গ্রামে মসজিদের জমি ও উন্নয়ন কাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া ও উত্তরপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাপুনিয়া কলোনি গ্রাম প্রতিষ্ঠার সময় ৯০ ঘর বসতির জন্য ‘হাপুনিয়া কলোনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ১৯৯১ সালে ‘হাপুনিয়া বাগান জামে মসজিদ’ নামে নতুন একটি ওয়াক্তের মসজিদ হয়। ২০১৪ সালে উত্তরপাড়ার লোকজন সেই নতুন মসজিদের পাশে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করে। এই নতুন মসজিদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমাজ ও গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুরাতন মসজিদ (কলোনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) কমিটি নতুন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের জমির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সম্প্রতি আদালতের রায় তাদের পক্ষে আসে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পুরাতন মসজিদ কমিটির লোকজন আদালতের রায় মূলে ওই বিতর্কিত ঈদগাহ মাঠে গিয়ে মেহরাব ভেঙে মসজিদের উন্নয়নের জন্য গাছ লাগাতে যান। এ সময় উত্তরপাড়া (বাগান জামে মসজিদ) সমাজের লোকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
পুরাতন মসজিদ কমিটির পক্ষের জামাল উদ্দিন, শাহীন, আব্দুর হাই ও আবু বক্কর বলেন, নতুন মসজিদে তারা ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করুক, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সমাজ আলাদা করেছে, সেটাও মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায় অনুযায়ী জায়গাটি আমাদের পুরাতন মসজিদের। সেখানে মসজিদের উন্নয়নের জন্য গাছ লাগাতে গেলে উত্তরপাড়ার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে, উত্তরপাড়া সমাজের বাশার আল হামিদ, আবদুল মালেক, হৃদয় ও সুমন অভিযোগ করে বলেন, পুরাতন মসজিদ কর্তৃপক্ষ নতুন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ উচ্ছেদের জন্য আদালতে মিথ্যা মামলা করেছিল। তারা আরজিতে লিখেছে সেখানে কোনো মসজিদ বা ঈদগাহ নেই, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আদালত একতরফা রায় দিলেও আমরা তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছি। আপিল বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আজ হঠাৎ তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল ও ভাঙচুর করতে আসে। মুসল্লিরা পবিত্র ঈদগাহ ও মসজিদ রক্ষা করতে গেলে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);