অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হবে চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। গত বছরের তুলনায় মোট পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশনাও এরইমধ্যে জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এরইমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষা পরিচালনায় ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ সিসিটিভি মনিটরিং সেল, যেখান থেকে অনলাইনে দেশের যে কোনো কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম কক্ষপরিদর্শক রাখা যাবে না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। পরে মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটি সূত্রে জানা যায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেয়া হবে।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি বা যে কোনো অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতি, ক্রীড়া, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতা সমান গুরুত্ব পাবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);