বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় সুপ্রিম কোর্টের চারজন এমএলএসএসকে (অফিস সহায়ক) সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছে। তারা হলেন- মো. আসাদুজ্জামান, মোসা. রুক্ষুন নিশা, মো. মিরাজ ও মো. মেহেদী হাসান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে ৪ মে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন কয়েকজন এমএলএসএস। এই ব্রিফিংয়ের পরদিনই বরখাস্তের আদেশ আসে।
ব্রিফিংয়ে তারা দাবি করেন, তাদের চাকরির সার্কুলারে অফিস সহায়ক হিসেবে অফিসে ডিউটি করার কথা বলা ছিলো, বাসায় ডিউটির কথা উল্লেখ ছিলো না। এ অবস্থায় তাদের দীর্ঘদিন বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের উদ্যোগে তাদের বাসা থেকে প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। সম্প্রতি আবারও এই এমএলএসএসদের বিচারপতিদের বাসায় কাজ করতে পাঠানো হয়।
বিচারপতিদের বাসায় কাজের অভিজ্ঞতাকে দাসত্ববৃত্তির সঙ্গে তুলনা করে এমএলএসএসরা সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতিদের বাসায় ডিউটি করার কারণে আমরা কোনও সাপ্তাহিক ছুটি পাই না। ঈদের দিনও কাজ করতে হয়। আমরা আর বাসাবাড়িতে যেতে চাই না।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে এমএলএসএসরা বলেন, বিচারপতিদের বাসায় বিভিন্নভাবে আমরা অত্যাচারিত ও জুলুমের শিকার হই। আমরা অফিসিয়াল চাকরি করতে এসেছি, কিন্তু তারা আমাদের দিয়ে বাবুর্চি, নিরাপত্তাকর্মী, ধোপা, দারোয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও করাচ্ছে। এটা একটা দাসপ্রথা, আমরা দাসপ্রথার অধীনে থাকতে চাই না।
জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এমএলএসএস পদের নতুন নাম অফিস সহায়ক। তাদের কাজ মূলত অফিসে সীমাবদ্ধ। ১৯৬৯ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, অফিস সহায়করা অফিসের আসবাব ও রেকর্ড সুন্দরভাবে বিন্যাস, ফাইল ও কাগজপত্র স্থানান্তর, হালকা আসবাব সরানো, ফাইল অন্য অফিসে নেওয়া, কর্মকর্তাদের পানীয়জল পরিবেশন, মনিহারি ও অন্যান্য জিনিস সংরক্ষণ, ইউনিফর্ম পরা, কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা, ভদ্র ব্যবহার করা, ব্যাংকে চেক জমা ও টাকা তোলা, ১৫ মিনিট আগে অফিসে আসা এবং বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ করবে না। কিন্তু আদালতের যেসব কর্মচারীকে বাসায় পাঠানো হয়, তাদের গৃহকর্মী, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সরকারি বন্ধের দিনও তাদের ছুটি দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এমএলএসএসরা বিচারপতিদের বাসায় শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হয়। দেখানো হয় ভয়ভীতি। কর্মচারীদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার, মাছ কাটা, কাপড় ধোয়ানো, গৃহস্থালির সব কাজ করানো হয়। তা ছাড়া হাত তোলা, অনাহারে রাখা, পকেটের টাকা দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে বাধ্য করারও অভিযোগ রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);