গত দুইদিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজায় নাছিমা আক্তার লিমা নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী জসিম উদ্দিন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের ঢালঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাস করছিলেন নাছিমা আক্তার লিমা ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন। টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে একপর্যায়ে ধসে পড়ে তাদের বসতঘরের ওপর। এতে দুজনই মাটিচাপা পড়েন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের বের করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক নাছিমা আক্তার লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিন বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইউনুচ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দুইদিনে প্রাণহানি বেড়ে ১২:
গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। একই সময় কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে প্রাণ হারান আরও একজন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে মাটির ঘর ধসে মারা যায় একটি শিশু। সর্বশেষ নাছিমা আক্তার লিমার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। তবে বড়ছড়াসহ জেলার অনেক পাহাড়ি বসতিতে এখনো অসংখ্য পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহলের মতে, প্রতিবছর বর্ষা এলেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রাণহানির ঘটনাও নতুন নয়। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। একই সঙ্গে কার্যকর ও স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থার অভাবও রয়ে গেছে। ফলে প্রতিটি বর্ষায় নতুন করে প্রাণহানির শঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে পাহাড়ঘেঁষা বসতির হাজারো মানুষকে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাও আবারও প্রশ্ন তুলেছে, আর কত প্রাণ ঝরলে মিলবে স্থায়ী সমাধান।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);