প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, দেশের বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে এই বরাদ্দ কোনো ব্যয় নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য একটি বিনিয়োগ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতকেও আরও কার্যকর ও সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।
প্রযুক্তির পরিবর্তন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনসহ নানা ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস রয়েছে। বিশ্বের যেকোনো বিষয়ে সার্চ করলেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বিপুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ১০ বছর আগের বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ এবং বর্তমান বিশ্বের ব্যবধান অনেকটাই রাত-দিনের মতো।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও বিশ্বপরিসরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, গুগল ও টিকটকের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা নতুন নতুন অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে বিশ্বব্যবস্থা, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছেন।
নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশেও পাঠাও, চালডালসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এক দশক আগে একজন শিক্ষিত মানুষ যেসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে সেগুলো নিয়ে একইভাবে ভাবা সহজ ছিল না। দুই দশক আগে অনেক বিষয় ছিল কল্পনারও বাইরে। প্রযুক্তির বিকাশের ফলে মানুষের জীবনযাপন, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
তরুণদের পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারি, তাহলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব। তাই নতুন প্রজন্মকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
বিএম কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বিএম কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগেও উপমহাদেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক গতিপথে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে উঠেছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার বিষয়টি তার পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। তার মতো অনেকেই নিম্নবিত্ত বা দুর্বল পরিবারের সন্তান হয়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। সমাজের একটি সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি থেকে উঠে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারাকে নিজের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, তার বাবা স্বপ্ন দেখতেন তিনি একদিন বিসিএস ক্যাডার হবেন। এখন তিনি অনেক বিসিএস ক্যাডারকে পরিচালনা করেন—এটিকে নিজের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাকে নিয়ে কে কী বলল কিংবা তিনি চরের ছেলে কি না—এসব বিষয় নিয়ে তিনি ভাবেন না। নিজের কাজের দিকেই তার মনোযোগ। ইচ্ছাশক্তি, আগ্রহ ও দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা থাকলে মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিএম কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি