কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভরাসার বাজারের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি বটগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগে এই বটগাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ভরাসার বাজার। বর্তমানে গাছটির নিচে ও আশপাশের সরকারি (খাস) ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গাজুড়ে প্রায় ৩৬০টি দোকানপাট ও হাটবাজার রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই বটগাছ শুধু বাজারের সৌন্দর্যই নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের খাস জায়গা দখল করে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদন ছাড়াই ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে সরকারি জায়গায় থাকা শতবর্ষী বটগাছটি কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এর কয়েকটি বড় ডালও কেটে ফেলা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন তোহা বাজারের খাস জায়গা দখল করে হোটেল দিয়ে রেখেছেন। মাছ বাজারের খাস জায়গা দখল করে মুরগির দোকান দিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেতার ভাই নাঈম। বটগাছের পাশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের একাধিক দোকান রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মাহবুবুর রহমান পক্কু বলেন, “লোকমুখে শুনেছি, গাছটি কাটার পেছনে কিছু স্বার্থ থাকতে পারে। বাজারের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক এই বটগাছ। এটি কেটে ফেললে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
গাছ কাটার আগে ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “ভরাসার বাজারে পুরোনো বটগাছটি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু বাজার পরিদর্শন করে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির কমান্ডার বাহার মিয়া ও যুগ্ম সম্পাদক রতন বলেন, “গাছটি অনেক পুরোনো। এর ছায়াতেই বাজার গড়ে উঠেছে। কারা মোটা ডালগুলো কেটেছে আমরা জানি না। তবে পুরো গাছ কেটে ফেললে বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।”
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বটগাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। কী কারণে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে বুড়িচং ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. তারেক বিন ওয়ালী বলেন, “অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় কিছু লোক গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কয়েকটি ডাল কেটে ফেলে। ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।”
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, “ভরাসার বাজারের বটগাছ কাটার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের লোকজন পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);