রিজিকের সন্ধানে মানুষ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। উন্নত জীবনের আশা, সংসারের স্বচ্ছলতা এবং হালাল উপার্জনে বরকত লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রায় সবারই। ইসলামে রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হলেও পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলো রিজিকে বরকত ও প্রাচুর্যের মাধ্যম হতে পারে।
নিচে এমন ছয়টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা
তওবা ও ইস্তিগফার বান্দার গুনাহ মাফের পাশাপাশি রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বৃদ্ধি দান করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদ-নদী সৃষ্টি করবেন।”
(সুরা নুহ: ১০-১২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”
(সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮, ইবনে মাজাহ: ৩৮১৯)
২. তাকওয়া অবলম্বন ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা
আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতা রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সুরা আত-তালাক: ২-৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের ঠিক তেমনি রিজিক দিতেন, যেমন পাখিদের দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।”
(জামে তিরমিজি: ২৩৪৪)
৩. সামর্থ্য অনুযায়ী হজ ও ওমরাহ পালন করা
হজ ও ওমরাহ গুনাহ মাফের পাশাপাশি অভাব দূর হওয়ারও একটি মাধ্যম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে, যেমন কামারের হাপর লোহার ময়লা দূর করে।”
(তিরমিজি: ৮১০, নাসায়ি: ২৬৩১)
৪. আল্লাহর পথে হিজরত ও দ্বীনের জন্য ত্যাগ স্বীকার
কোরআনে আল্লাহর পথে হিজরতের মাধ্যমে জীবিকার প্রশস্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয়স্থল ও প্রাচুর্য লাভ করবে।”
(সুরা আন-নিসা: ১০০)
৫. সময়মতো নামাজ আদায় ও ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া
নামাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হওয়া রিজিকে বরকতের অন্যতম কারণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আপনি আপনার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দিন এবং নিজেও তাতে অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে রিজিক চাই না, বরং আমিই আপনাকে রিজিক দিই।”
(সুরা ত্বহা: ১৩২)
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে নিবেদিত করো। আমি তোমার হৃদয়কে অভাবমুক্ত করে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করে দেব।”
(তিরমিজি: ২৪৬৬, ইবনে মাজাহ: ৪১০৭)
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এটিকে রিজিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ুর কারণ বলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ু বরকতময় হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
(সহিহ বুখারি: ৫৯৮৫, সহিহ মুসলিম: ৪৬৩৯)
৭. আল্লাহর পথে দান-সদকা করা
রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান-সদকা করা। অনেকেই মনে করেন, দান করলে সম্পদ কমে যায়। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহর পথে ব্যয় করলে তিনি বান্দাকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেন এবং রিজিকে বরকত দান করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে, তিনি তার প্রতিদান দেবেন। তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।”
(সুরা সাবা: ৩৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
“যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায় এবং প্রতিটি শীষে একশটি করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।”
(সুরা আল-বাকারা: ২৬১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“দান-সদকা কোনো সম্পদ কমায় না।”
(সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন,
“প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি দান করে তাকে আরও দান করুন।’ আর অন্যজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে কৃপণতা করে তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’”
(সহিহ বুখারি: ১৪৪২, সহিহ মুসলিম: ১০১০)
ইসলাম যা শিক্ষা দেয়
রিজিক বৃদ্ধি শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য নয়; বরং হালাল উপার্জনে বরকত, মানসিক প্রশান্তি, সুস্থতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। তাই একজন মুমিনের উচিত হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি তওবা, তাকওয়া, নামাজ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে জীবন পরিচালনা করা। এসব আমলের মাধ্যমে আল্লাহ চাইলে জীবনে বরকত ও কল্যাণ দান করেন।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);