আফগানিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী আবদুল আহাদ মোমান্দ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ জুন ৬৭ বছর বয়সে জার্মানিতে মারা গেছেন। ১৯৮৮ সালে মহাকাশ অভিযানে যাওয়ার সময় তিনি একটি পবিত্র কোরআন সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং মহাকাশে তা তেলাওয়াত করেছিলেন।
আবদুল আহাদ মোমান্দ ছিলেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম আফগান এবং ইতিহাসের চতুর্থ মুসলিম মহাকাশচারী। ১৯৮৮ সালে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘মির’ মহাকাশ স্টেশনে নয় দিন অবস্থান করে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠেন।
আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে জন্ম নেওয়া মোমান্দ দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে জার্মানিতে চলে যান। মস্কোর খ্যাতনামা ইউরি গ্যাগারিন বিমানবাহিনী একাডেমিতে অধ্যয়নকালে ৪০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত আটজনের একজন ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘ইন্টারকসমস’ কর্মসূচির মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মহাকাশে পাঠানো।
তার ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৩ সালে মোমান্দ আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। সে সময় দেশটির তৎকালীন কর্মকর্তারা তাকে সংবর্ধনা জানান।
এর আগে টোলোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোমান্দ অভিযানের প্রস্তুতির স্মৃতিচারণ করে বলেন, মহাকাশযাত্রার জন্য তাদের মাত্র ছয় মাস সময় লেগেছিল, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পুরো মিশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অথচ অন্যান্য দেশের মহাকাশচারীদের একই ধরনের প্রস্তুতিতে সাধারণত ১৮ মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
মোমান্দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আবদুল আহাদ মোমান্দ ছিলেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম আফগান। তিনি আফগানিস্তানের জন্য এক মহান ও অবিস্মরণীয় উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তার পরিবার, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন এবং তার পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।’
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারিও মোমান্দের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি তার পরিবার, বন্ধু এবং সমগ্র আফগান জাতির জন্য এক বড় ক্ষতি।’
আবদুল আহাদ মোমান্দের মহাকাশযাত্রা আফগানিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তার এই অর্জন আজও দেশটির তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
কাবুলের বাসিন্দা হেমাত খান বলেন, ‘অন্য আফগানদের উচিত তার পথ অনুসরণ করা এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আফগানরা আবারও মহাকাশে যেতে পারে এবং দেশের জন্য নতুন অর্জন বয়ে আনতে পারে।’
আরেক বাসিন্দা সাইয়েদ বোজার্গ বলেন, ‘তিনি পুরো জাতির গর্ব ছিলেন এবং মহাকাশে যাওয়া প্রথম আফগান। তিনি পবিত্র কোরআনও সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে মূল্যবান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’
আবদুল আহাদ মোমান্দ আজ আর বেঁচে না থাকলেও তার পৃথিবী থেকে মহাকাশে পৌঁছানোর সেই ঐতিহাসিক যাত্রা আফগানিস্তানের মানুষের স্মৃতিতে চিরজাগ্রত হয়ে থাকবে। তার এই কীর্তি পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে আফগানিস্তানের নাম বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।
সূত্র: বিবিসি
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);