শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
একদিনের সরকারি ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি এবার স্বর্ণের দামে বড় পতন ভারতে বজ্রপাত ও ভারি বর্ষণে মৃত্যু বেড়ে ১১১ সন্ধান মিলল ‘রহস্যজনকভাবে’ নিখোঁজ সেই ৪ স্কুলছাত্রীর টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ যুবকের মৃত্যু ২১ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের পরিচয় গুপ্ত রেখে দেড় মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে অবস্থান তরুণীর মোটরসাইকেলে কড়াকড়ি, নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা নিয়ে নীরবতা কেন? ইরানে গোপন হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত নেপালে অবতরণের সময় হঠাৎ বিমানে আগুন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের রায় ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন মোনামির পদত্যাগ বাংলাদেশ সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ও টি-২০ দল ঘোষণা সাজেক সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ইউপিডিএফের আধাবেলা সড়ক অবরোধ রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লিগ শিরোপা জিতল বার্সেলোনা ২০২৬ বিশ্বকাপে হট ফেবারিট কারা, জানালেন মেসি আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম ও জনবলের চাকরি বহাল রাখার দাবি নাটোরে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ছাগল ব্যবসায়ীর, আহত ৩ নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

নজরদারি ও পর্যবেক্ষণে কার্যকর হাতিয়ার ইরানি হোমা ড্রোন

সীমু দা
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF %E0%A6%93 %E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A7%87 %E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A6%B0 %E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0 %E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF %E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE %E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8

বর্তমানে যুদ্ধ পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে ড্রোন বিশ্বের সেনাবাহিনীতে, বিশেষ করে শক্তিশালী সামরিক দেশগুলোর কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, অত্যাবশ্যকীয় এবং মূল্যবান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

পার্সটুডের মতে, গত তিন দশকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ড্রোনের অগ্রগতি সর্বদাই চিত্তাকর্ষক ছিল এবং এখন ইরান শীর্ষ ১০টি ড্রোন শক্তিধর দেশের মধ্যে অন্যতম, যাদের বিভিন্ন ধরণের ড্রোনের নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি প্রগতিশীল ধারা রয়েছে।

ইরানে তৈরি ড্রোন বিশেষ করে গত দশকে আঞ্চলিক সংঘাতের উদ্ভবের কারণে এই অঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি ও গোয়েন্দাগিরি, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের উচ্চ উপযোগিতা প্রদর্শন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মনুষ্যবিহীন বিমানের পরিমাণ এবং গুণমানের দুটি উপাদানের ওপর মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এই সক্ষমতা একটি উল্লেখযোগ্য বিস্তার লাভ করেছে। ড্রোনের শ্রেণিবিন্যাসে এদেরকে গোয়েন্দা, যুদ্ধ এবং ধ্বংসাত্মক—এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর আত্মনির্ভরশীলতা জিহাদ বিভাগের ইরানি বিমান শিল্প বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সক্ষমতাসম্পন্ন নানা মডেলের ড্রোন তৈরি করেছেন এবং সেগুলো সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ইউনিটগুলোকে সরবরাহ করেছেন। এই ড্রোনগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমা ড্রোন, যার উড্ডয়ন ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

নির্মাণের ঘোষণা
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয় যে, ইরানি বিশেষজ্ঞরা “হোমা” নামে একটি নতুন ড্রোন তৈরি করেছেন, যা এর গঠনশৈলী, সুযোগ-সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অনন্য।

বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই ড্রোনটি তৈরির মাধ্যমে ইরান আমেরিকার আরকিউ-৭ ড্রোনের ইরানি এবং অবশ্যই আরও উন্নত মডেল উন্মোচন করে। এর আগে ইসলামি বিপ্লবি গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ফোর্সের তৎকালীন কমান্ডার জেনারেল শহীদ হাজিজাদেহ, আরকিউ-৭ এর একটি নমুনা দখলের কথা ঘোষণা করেন এবং ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর বলেন: “আরকিউ-১৭০ দখলের আগে, আমাদের কাছে স্ক্যানঈগল ড্রোন এবং ‘শ্যাডো’ (যার অর্থ ছায়া) নামক আরেকটি ড্রোনের নমুনা ছিল। এই ড্রোনগুলোর কয়েকটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইরানে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং আমরা বর্তমানে সেগুলো থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করছি।”

এই বিবৃতিগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের কাছে আমেরিকার ‘আরকিউ-৭ শ্যাডো’ ড্রোনের একটি নমুনা ছিল এবং ইরানি বিশেষজ্ঞদের পক্ষে এই আমেরিকার ড্রোনটি ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। হোমা ড্রোনের কাঠামোর বৈশিষ্ট্য ও আকৃতির বিস্তারিত পরীক্ষা থেকে দেখা যায় যে, এই ড্রোনটি আরকিউ-৭ শ্যাডো ড্রোনের সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এমনকি তার চেয়েও বেশি উন্নত।

আরকিউ-৭ কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক গোয়েন্দা ও গুপ্তচর ড্রোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ড্রোনটি প্রথম ১৯৯১ সালে উড্ডয়ন করে এবং ২০০২ সাল থেকে এটি সক্রিয় রয়েছে ও ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি দেশ দ্বারা  আরকিউ-৭ হলো  আরকিউ-২  এর একটি আরও আধুনিক সংস্করণ।

এখন পর্যন্ত, এই ড্রোনের বেশ কয়েকটি মডেল মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী এবং আরও ৯টি দেশ তৈরি ও ব্যবহার করেছে। এই ড্রোনটি মেরিল্যান্ডে আমেরিকান কোম্পানি এএআই দ্বারা নির্মিত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন অভিযানে এই ড্রোনটি পরিচালনা ও ব্যবহার করেছে। আমেরিকার আরকিউ দুটি মডেলে তৈরি করা হয়।  A এবং B, এবং এই ড্রোনের A মডেলের চেয়ে B মডেলটি আরও উন্নত।

বৈশিষ্ট্যসমূহ
হোমা ড্রোন উন্মোচনের সাথে সাথে, এই ড্রোনের বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এতে আমেরিকার মডেলের সমপর্যায়ের এবং কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, উড্ডয়নের স্থায়িত্বের দিক থেকে, উন্নত আমেরিকার আরকিউ-৭ মডেল (টাইপ B) সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা একটানা উড়তে পারে, কিন্তু হোমা টাইপ ১, যা হোমা ১ নামে পরিচিত তার উড্ডয়নের স্থায়িত্ব ৪ থেকে ৬ ঘন্টা এবং হোমা টাইপ ২ যা হোমা ২ নামে পরিচিত,একটানা ১০ থেকে ১২ ঘন্টা উড়তে পারে। .আরকিউ-৭ টাইপ বি ড্রোনের উড্ডয়নকালীন ওজন ১৭০ কিলোগ্রাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু হোমা ২-এর উড্ডয়নকালীন ওজন ২৬০ কিলোগ্রাম। এর মানে হলো, আরকিউ-৭-এর ইরানি সংস্করণটির শক্তি অনেক বেশি এবং সেই অনুযায়ী ইরানি হোমা ড্রোন যে সরঞ্জাম বহন করতে পারে তা স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার ধরনের চেয়ে অনেক বেশি যা এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে যে হোমার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা সজ্জিত হয়ে যুদ্ধকালীন মিশন পরিচালনার ক্ষমতা আছে বা থাকবে।

শ্যাডো ড্রোনের মতো হোমা ড্রোনেরও উঁচু ডানা এবং স্থির ল্যান্ডিং গিয়ার রয়েছে। অবশ্যই, শ্যাডোর মতোই হোমারও একটি লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করে রানওয়ে থেকে ওড়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং অবতরণের জন্য এটি ল্যান্ডিং গিয়ার ব্যবহার করে রানওয়েতে নামে। যদিও হোমা ড্রোনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের ধরন এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তৎকালীন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি ড্রোনের ইঞ্জিনসহ দেশীয় উৎপাদন সম্পর্কে বলেছেন যে, ড্রোনের সমস্ত যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয় এবং আমরা ওয়াঙ্কেল থেকে শুরু করে সবকিছু উৎপাদন করি। আমাদের নিজস্ব সক্ষমতার উপর নির্ভর করে আমরা ইঞ্জিন (এক ধরনের রোটারি ইন্টারনাল কমবাসশন ইঞ্জিন) থেকে শুরু করে পিস্টন ইঞ্জিন এবং জেট ড্রোন পর্যন্ত তৈরি করছি।

ওয়াঙ্কেল হলো একটি বিখ্যাত রোটারি ইন্টারনাল কমবাসশন ইঞ্জিন যার প্রযুক্তি বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ অর্জন করতে পেরেছে। আরকিউ-৭ ড্রোন প্রস্তুতকারী মার্কিনী কোম্পানিটিও এই ড্রোনে এই ইঞ্জিনটি ব্যবহার করেছে। আরকিউ-৭ ড্রোন এবং ইরানের হোমা ড্রোনের কাঠামোতে একমাত্র যে পার্থক্যটি দেখা যায়, তা হলো ড্রোনটির জন্য ডিজাইন করা লেজের ধরন। আমেরিকার মডেলে একটি ৮-আকৃতির লেজ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরানের ইয়াসির ড্রোনে ব্যবহৃত লেজের মতোই, কিন্তু হোমা ড্রোনে ব্যবহৃত লেজগুলো একটি বুম (অর্ধ-বর্গাকার আকৃতির) দ্বারা সংযুক্ত থাকে। হোমা ড্রোনের প্রধান কাজ হিসেবে গোয়েন্দাগিরি এবং বিশেষ নজরদারির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ এই ড্রোনটিতে দিন ও রাত্রিকালীন ভিশন ক্যামেরা থাকায় এটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন। এই ড্রোনটি তার ক্যামেরার মাধ্যমে তোলা ছবি এবং ভিডিও ডেটা লিঙ্কের (অনলাইন ট্রান্সমিশন) মাধ্যমে তার গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে প্রেরণ করতেও সক্ষম।



সাজু/নিএ

!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,

fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By