অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কয়েকগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছিল সংঘবদ্ধ একটি চক্র। শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর ধাপে ধাপে হাতিয়ে নেওয়া হতো ভুক্তভোগীদের সর্বস্ব। প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তেই বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমন একটি অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেন চক্রের ৯ সদস্যকে রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ঝাং জিয়াহাও, এম এ, লিও জিঞ্জি, ওয়াং শিবো, চাং তিয়ানতিয়ান, জেমস ঝু, মো. কাউসার হোসেন, মো. আব্দুল কারিম ও রোকন উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিবি। সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাস এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করা হয়।
তিনি জানান, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অল্প সময়ে মোটা অঙ্কের লাভের প্রলোভন দেখানো হতো। প্রথমদিকে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জনের পর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে উৎসাহিত করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে তুরাগ থানার রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় চীনা নাগরিককে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণা পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ৬৪-পোর্টবিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, একটি ৮-পোর্টবিশিষ্ট এবং একটি ২৫৬-পোর্টবিশিষ্ট সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও এনআইডি এবং একটি টয়োটা মাইক্রোবাস।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “চক্রটি প্রথমে কিছু লাভ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করত। পরে বড় বিনিয়োগ করিয়ে ভুক্তভোগীদের নিঃস্ব করে দিত। আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি, এসব টাকা নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছিল।”
অবৈধভাবে সিম বিক্রির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কম শিক্ষিত গ্রাহকদের অজান্তে একাধিকবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে অতিরিক্ত সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে সেই সিম প্রতারক চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);