রাজধানীর শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে মোহাম্মদসহ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত ১৫ সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরূচিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আবদুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একটি পাল্টা স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি দিলে তিনি সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহবাগ নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে যান। তার সঙ্গে অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের জিএস উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরো দুইজন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন- কালের কন্ঠের মানজুর হোসেন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের এইচ এম খালিদ হাসান, ডেইলি অবজার্ভারের নাইমুর রহমান ইমন, ডেইলি স্টারের মাহাথীর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মো. ছাব্বিরুল ইসলাম, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডি ডট কমের সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদৌজা নবাব, প্রাইম বাংলাদেশের ইফতেখার সোহান সিফাত, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মাহরিব বিন মহসিন।
হামলায় সাংবাদিক লিটন ইসলাম ও মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাতের চোখে এবং মুখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ন পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মো. মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়, বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালেরকন্ঠ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার মনজুর হোসেন মাহী। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং তেড়ে আসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।’
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাইজিং বিডি ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সৌরভ ইসলাম বলেন, ‘ওরা আমাকে জোর করে টেনে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হচ্ছিল বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে যাই।’
এদিকে সাংবাদিকদের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে ঘিরে যে অশ্লীল ফটোকার্ড সোশ্যালমিডিয়াতে ছড়ানো হলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে প্রচলিত প্রসিডিওর মেনে প্রাধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করে কিন্তু কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, শাহবাগে আসেন। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা ৩ থেকে ৪ জন, ছাত্রদলের হাজার-হাজার নেতাকর্মীর মাঝে আসার পর এমন পরিস্থিতিটি তৈরি হয়। যারা আহত হয়েছে, তাদেরকে নিরাপদে আমরা পার করে দিয়েছি। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মাত্র ২ মাস হয়েছে, এখন এই নতুন সরকারের সূচনা লগ্নে আমরা (ছাত্রদল) অস্থিতিশীল করব, এটি কেউ বিশ্বাস করবে না। আজকের এই অস্থিতিশীলতার মূলে গুপ্ত রাজনীতি (শিবির) এবং আজকে এখানে যেটি হলো সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোপাগান্ডা।’
সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টা আমি শুনেছি। দেখছি আমি।’
এদিকে রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে মোহাম্মদকে দেখতে আসেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহাঃ মহিউদ্দিন খান।
এসময় সাংবাদিকদের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘একটি ভুয়া স্কিন শার্টের উপর ভিত্তি করে আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, প্রাণের ভয়ে যখন মাহমুদ থানায় যায় তখন তার উপর হামলা চালানো যায়। যখন ডাকসুর প্রতিনিধিরা যায় তখন তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। মুসাদ্দিক-জুবায়েরসহ ১০ থেকে ১৫ জন হল সংসদ ও ডাকসু প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকদের উপর পুলিশের সামনে হামলা চালানো হয়েছে। এটাই কি প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান? ছাত্রদলকে বলব, আপনারা আগুন নিয়ে খেলবেন না। আবার যদি ক্ষমতার রাজনীতি ফিরে আনার চেষ্টা করা হয় এবং এই সন্ত্রাসী কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। উপচার্যকে ফোন দিয়েছি, অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।’
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);