দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার মাঝে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীনস্থ দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দীঘিনালা উপজেলার মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সকাল থেকেই ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা থেকে আসা সহস্রাধিক রোগী এদিন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকদের পাশাপাশি দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. শায়খউদ্দীন সাকলাইন রোগীদের আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করেন।সারাদিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় এক হাজারের বেশি রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ সাউথ, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটি, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং খুলশী সেন্ট্রাল এবং মংপ্রুসাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশন। সম্মিলিত এ প্রয়াস স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য করে তুলেছে। ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখের বিভিন্ন জটিল সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, আগামী ১৬ মে থেকে চোখে ছানি পড়া প্রায় দুই শতাধিক রোগীকে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে। যা পাহাড়ি মানুষের জন্য এক বিশাল আশার বার্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা আশাপূর্ণা চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চিকিৎসা নিতে পারেননি। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের মাঝে স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আস্থা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শান্তি ও মানবিকতার এই সমন্বিত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও প্রমাণ করেছে তারা শুধু নিরাপত্তার প্রহরী নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নির্ভরতার নাম।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);