কাজ এখনো শেষ হয়নি, এরই মধ্যে ধস নামতে শুরু করেছে শত কোটি টাকার নদী রক্ষা প্রকল্পে। যমুনা নদীর সামান্য পানির চাপেই সাঘাটার গোবিন্দপুর এলাকায় নদীশাসন প্রকল্পের সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। এতে প্রকল্পের নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৭ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে ফুলছড়ির কাতলামাড়ি এবং সাঘাটার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প’-এর বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের ১০ নম্বর সাইটের সিসি ব্লকগুলো নদীর পানির চাপে সরে গিয়ে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় ধরনের ফাটল ও ধসের চিহ্নও স্পষ্ট।
বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে প্রকল্পের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্লক ধসে পড়ার ঘটনা নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “উজান থেকে পানির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
আরেক বাসিন্দা সাজু অভিযোগ করে বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে এভাবে ব্লক নদীতে যেত না। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু কাজের মান কোথায়?”
মতিয়ার রহমান বলেন, “বন্যা শুরু হওয়ার আগেই ব্লক ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এত বড় প্রকল্পের এমন অবস্থা দেখে আমরা আতঙ্কে আছি।”
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবীর বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে নির্মাণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। বর্ষা মৌসুমে নদীর ব্যাংক লাইন ডিজাইনের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে সিসি ব্লক প্লেসিং করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে ডিজাইন অনুযায়ী পুনর্বাসন করবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হবে না। এছাড়া প্রয়োজনীয় সিসি ব্লক মজুদ রয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডান তীরের ভয়াবহ ভাঙন থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামাড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষায় প্রায় ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরে নদীর ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়।
কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে গভীর সংশয়। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা ব্যাখ্যা নয়, প্রকল্পের গুণগত মান ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);