ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই আন্দোলনবিরোধী ভূমিকার অভিযোগে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ঝুলে থাকা ৩৩ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মতো একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
শনিবার বিকেল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় সভা হয়।
উপাচার্য বলেন, জুলাই বিরোধী ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যাপারে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করছি না। আমাদের বিভিন্ন বডির সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে আমরা অবশ্যই একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।
তিনি বলেন,শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি—বিগত প্রশাসন তাদের সময় অনুযায়ী যেটি করা উচিত ছিল, তারা সেটিই করেছে। বিগত প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেগুলোর সঙ্গে আমি মোটেও সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমি মনে করি, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল বিবেচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য তাদের আমি প্রশংসা করছি।
এসময় তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জুলাই শহীদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ক্যাম্পাসে১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তর এখানে রয়েছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের স্মরণেও একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ইবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, ইবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, ইবি রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ জুরুরি সিন্ডিকেটে জুলাই আন্দোলনবিরোধী ভূমিকার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ১৯ শিক্ষক এবং ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর শাস্তি মওকুফ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের শাস্তি মওকুফের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও একই ইস্যুতে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হওয়া ৩৩ শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে তাঁদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ জন শিক্ষক এবং ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩০ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ও কর্মকর্তা ইউনিটের সদস্য। একই অপরাধে ৩৩ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে—যাঁদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাঁদের সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিল কার্যকর করা হয়নি।
সে কারণে তাঁরা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে গত ১৮ মার্চের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি মওকুফ করা হলেও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে একই অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও দুই পক্ষের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);