দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও নিম্নমুখী সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে। ফলে ভ্যাটসহ এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
বাজুস বলেছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত বা আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট ও মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
এর আগে সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তখন ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। ওই দরও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৮ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫৯ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয়েছিল ২৯ বার।