বাংলাদেশে নারীদের ছবি বিকৃত করে অনলাইনে হয়রানি ও সুনামহানির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপন করেছেন ড. আব্দুল আউয়াল। ১৪ অক্টোবর স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অন ডিজিটাল ভায়োলেন্সে (আইসিডিভি ২০২৬) তিনি তাঁর গবেষণা তুলে ধরেন। দুই দিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৩ ও ১৪ অক্টোবর। তাঁর উপস্থাপিত গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘When a Photograph Becomes a Weapon: Sexualised Image Manipulation, Digital Reputational Violence, and the Silencing of Women in Bangladesh’।
ড. আউয়াল পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় ও আফ্রিকান সংস্কৃতি অনুষদের দক্ষিণ এশীয় অধ্যয়ন বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত আছেন। এই গবেষণায় ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পাঁচটি পোস্ট ও উক্ত পোস্টের নির্বাচিত মন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে রাজনীতি, নাগরিক আন্দোলন, চিকিৎসা, বিনোদন ও উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত পরিচিত বাংলাদেশি নারীদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হয়। উপস্থাপনায় বলা হয়, এ ধরনের হয়রানি নারীর নিরাপত্তা, সুনাম ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উল্টো ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতা এবং নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় অনেক নারী অভিযোগ জানানো থেকে বিরত থাকে।
এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো, অভিযোগ জানানোর সহজ ও গোপনীয় ব্যবস্থা রাখা এবং ভুক্তভোগীদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি তদন্তের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকৃত ছবি ও সংঘবদ্ধ হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ব্রিল থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ড. আউয়ালের বই ‘English, Power, and Inequality: Linguistic Imperialism and the Localisation of English in Bangladesh’। জরিপ, সাক্ষাৎকার ও ধ্বনিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রচিত বইটিতে বাংলাদেশের শিক্ষা, পরিচয়বোধ ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে ইংরেজি ভাষার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে গড়ে ওঠা ভাষাগত ক্ষমতার সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে ইংরেজির স্থানীয় ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে শিক্ষায় সমান সুযোগ ও ভাষাগত ন্যায্যতার প্রশ্নও গুরুত্ব পেয়েছে।