আইনের আশ্রয় চেয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন একজন সাংবাদিক। কিন্তু সেই মামলার জের ধরেই এবার তার পরিবারের ওপর নেমে এসেছে সন্ত্রাসী তাণ্ডব। অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামিরাই সংঘবদ্ধ হয়ে সাংবাদিকের বসতভিটায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং জমি জবরদখলের ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা গ্রামে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, আদালতে মামলা দায়েরের পর ক্ষুব্ধ হয়ে একটি ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্র তার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর, খড়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, মালামাল লুটপাট এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৃত একরাম মিয়ার ছেলে আবদুল মজিদের নেতৃত্বে তার চার ছেলে রাশেদ, জাহেদ, মুহিব ও শহীদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের সঙ্গে কামালের ছেলে মাসুদ, রশিদ আহমদের ছেলে আতিক, আবদুল্লাহ, এনামসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে একটি খড়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। একই সঙ্গে বসতঘরে থাকা আসবাবপত্র, গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা প্রায় ১০ শতক জমিও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন জানান, এ ঘটনা কোনো আকস্মিক হামলা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। এর কয়েকদিন আগে তার ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি অভিযোগ করে জানান, গত ১৯ মে দুপুরে চকরিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় তার গতিরোধ করা হয়। আবদুল মজিদের নেতৃত্বে একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় তিনি আবদুল মজিদ, তার ছেলে রাশেদ, শহীদ, মুহিব, ভাতিজা এনাম, আতিক, আবদুল্লাহসহ ১২ জনকে আসামি করে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব কক্সবাজার জেলা পিবিআইকে প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের মাত্র দুই দিনের মাথায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা চালায়।
সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, আদালতে মামলা করার কারণেই তার পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি সহিংস রূপ নিয়েছে। একজন সাংবাদিক আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাওয়ার পর তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);