শিল্প-সত্তায় জাগরণ আর সৃজনশীলতার প্রত্যয়ে বগুড়ার শেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘শেরপুর সাহিত্য চক্র’-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শুক্রবার (১৫ মে) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। দীর্ঘ চার দশকের এই পথচলা উদযাপন করতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। দিনের শুরুতেই সকাল ১০টায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মিলিত হয়। এরপর উদ্বোধনী পর্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও গবেষক ড. অশোক বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সামাজিক অবক্ষয় ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে মানবিক করে গড়ে তুলতে তাদের বইপড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. তারিক মনজুর সংগঠনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মফস্বল শহর থেকে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাওয়া একটি বিরল দৃষ্টান্ত। শেরপুর সাহিত্য চক্র প্রমাণ করেছে যে, রাজধানীর বাইরে থেকেও উচ্চমানের সাহিত্য সৃষ্টি ও চর্চা সম্ভব।
শেরপুর সাহিত্য চক্র পুরস্কার ২০২৫ সাংবাদিকতা মো: আব্দুল মান্নান, প্রবন্ধ ও গবেষনা পেয়েছেন ড. গোলাম মোস্তফা, কবিতা কুশল ভৌমিক, কথা সাহিত্য মোহিত কামাল, এস এম রাহী পুরস্কার-২০২৫ গদ্য সাহিত্য ডা. মো: আমিরুল ইসলাম, কবিতা মামুন চৌধুরী, আব্দুস সালাম প্রিয় প্রজন্ম পুরস্কার-২০২৫ বিএম হাফিজুর রহমান ও সুমন মোহন্ত। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন ক্যাটাগরিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়া সংগঠনের নিজস্ব মুখপত্র ’শাশ্বত বাংলার মুখ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। শেরপুর সাহিত্য চক্রের সভাপতি সুলতান মাহমুদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী রিবর্ন। ইফতেখার আলম ফরহাদ, মামুন চৌধুরী ও কুলসুম শেলীসহ অন্যান্যদের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ছিল, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কবিরা স্বরচিত কবিতা পাঠ ও সমকালীন সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, সংগঠনের চার দশকের চড়াই-উতরাই ও সাফল্য নিয়ে প্রবীণ সদস্যরা স্মৃতি চারণ ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই শেরপুর সাহিত্য চক্র নিয়মিত সাহিত্য আসর, প্রকাশনা ও সৃজনশীল আড্ডার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আয়োজকরা জানান, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং তরুণ মেধাবীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে তারা কাজ করে যাবেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় সাহিত্য অঙ্গনকে আরও গতিশীল করবে।
মাসুম/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);