মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের অবস্থান কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ রায়েরবাজারে অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজে অভিযান, মালিক গ্রেপ্তার ভবিষ্যৎমুখী আইনেই এগোবে বাংলাদেশ | Amar Bangla BANGLADESH জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারি উদ্যোগে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ার নয়: আইনমন্ত্রী হামের প্রাদুর্ভাবে ৮ শিশুর মৃত্যু নভেম্বরে ইউপি ভোট, শুরু স্থানীয় নির্বাচন শিক্ষা-প্রযুক্তিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ২০ মামলা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় মঙ্গলবার কাল থেকে কারখানায় চাহিদামতো গ্যাস-বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ: দুদক সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি | Amar Bangla BANGLADESH মেট্রোরেলের গাবতলী – দাশেরকান্দি রুট একনেকে উঠছে বুধবার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৎ সাহস থাকলে দেশে ফিরে আসুন : সমাজকল্যাণমন্ত্রী বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সরকার সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অতীতের ১৫ বছর থেকে নতুন দিকে নিতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতি ও বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা: একটি আইনি বিশ্লেষণ

সীমু দা
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৪০ পূর্বাহ্ন
%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BE %E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87 %E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0 %E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8 %E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE %E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B2 %E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি ব্রেক্সিটের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বর্তমানে দেশটি সম্পূর্ণভাবে পয়েন্ট ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে যেখানে দক্ষতা, আয়, ভাষাগত যোগ্যতা এবং স্পনসরশিপকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের জন্য সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি শর্তও অনেক কঠোর হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দিষ্ট বেতন সীমা পূরণ করা এবং অনুমোদিত কোনো কোম্পানি থেকে চাকরির প্রস্তাব পাওয়া। সাধারণভাবে এই ভিসার জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতন প্রায় একচল্লিশ হাজার সাতশ পাউন্ডের কাছাকাছি থাকতে হয়, যদিও কাজের ধরন অনুযায়ী এটি কমবেশি হতে পারে। পাশাপাশি আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হয়, সাধারণত উচ্চ মধ্যম পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন হয়। আর্থিকভাবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকে আনুমানিক এক হাজার দুইশ সত্তর পাউন্ড দেখাতে হয় যদি স্পনসর সম্পূর্ণ খরচ বহন না করে। বর্তমানে মূলত স্বাস্থ্যখাত, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং শিক্ষা খাতে সুযোগ বেশি থাকলেও কম দক্ষতার কাজের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীর সুযোগ অনেক কমে গেছে এবং স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য অবশ্যই কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি নিশ্চিতকরণ পত্র নিতে হয়। ইংরেজি ভাষার দক্ষতার জন্য সাধারণত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে হয় যেখানে স্নাতক পর্যায়ে প্রায় ছয় থেকে ছয় দশমিক পাঁচ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ছয় দশমিক পাঁচ থেকে সাতের মতো স্কোর প্রয়োজন হয়। আর্থিক দিক থেকে লন্ডনে পড়াশোনার জন্য বছরে আনুমানিক তেরো হাজার সাতশ ষাট পাউন্ডের কাছাকাছি ব্যাংকে দেখাতে হয়, আর লন্ডনের বাইরে এই অঙ্ক কিছুটা কম হতে পারে। পাশাপাশি টিউশন ফি সাধারণত বছরে দশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর স্বাস্থ্য সেবা খাতে নির্দিষ্ট ফি দিতে হয় যা ভিসার অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক। স্টুডেন্ট ভিসায় টার্ম টাইমে সপ্তাহে সর্বোচ্চ বিশ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি থাকে এবং ভ্যাকেশনে ফুল টাইম কাজ করা যায়। মাস্টার্স শেষে গ্র্যাজুয়েট ভিসায় দুই বছর (২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত) কাজ বা চাকরি খোঁজার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে কিছু পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম হলো পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত করা এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা বৃদ্ধি পাওয়া।

স্পাউস ভিসা বা পারিবারিক ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের নাগরিক বা স্থায়ী বসবাসকারী ব্যক্তির সাথে বৈধ সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয় এবং সেই সম্পর্কের যথাযথ প্রমাণ যেমন একসাথে বসবাসের ইতিহাস, যোগাযোগ এবং সামাজিক সম্পর্ক দেখাতে হয়। আর্থিক দিক থেকে বর্তমানে ন্যূনতম বার্ষিক আয় প্রায় উনত্রিশ হাজার পাউন্ড হতে হয় অথবা বিকল্প হিসেবে বড় অঙ্কের সঞ্চয় দেখাতে হয় যা প্রায় আটাশি হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি হতে পারে। এই ভিসার প্রথম ধাপে সাধারণত আড়াই বছরের অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরে আবার আড়াই বছর নবায়ন করে মোট পাঁচ বছর বসবাসের পর স্থায়ী বসবাস বা আইএলআর পাওয়া যায়। আইএলআর পাওয়ার এক বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। নাগরিকত্বের আবেদনের সময় অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় ন্যূনতম মধ্যম পর্যায়ের (বি ওয়ান টেস্ট) দক্ষতা প্রমাণ করতে হয় এবং যুক্তরাজ্যের জীবন সম্পর্কিত পরীক্ষায় (লাইফ ইন দ‍্যা ইউকে টেস্ট) উত্তীর্ণ হতে হয়। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে যাঁরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভিসা বাতিল হচ্ছে না তবে নবায়ন, স্থায়ী বসবাস এবং চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি হারান বা স্পনসর কোম্পানি পরিবর্তন হয় তাহলে নতুন ভিসা পাওয়া আগের মতো সহজ নয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার এখন অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, ভ্রমণ ইতিহাস এবং সফরের উদ্দেশ্য খুব ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সামান্য অস্পষ্টতা থাকলেও ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে গেছে, ফলে এখন ভিজিট ভিসা সম্পূর্ণভাবে ডকুমেন্ট নির্ভর হয়ে পড়েছে।

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ পয়েন্ট ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এর ফলে অভিবাসন এখন আগের মতো সহজ নয় বরং যোগ্যতা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে সীমিত করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এখন দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো স্টুডেন্ট ভিসা এখনো সবচেয়ে কার্যকর পথ হলেও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে এবং স্পাউস ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে স্থিতিশীল পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং নথিপত্রের স্বচ্ছতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরিশেষে বলতে হয়,যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা এখন একটি পরিবর্তনশীল কাঠামোর মধ্যে রয়েছে যেখানে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কিন্তু সেই সুযোগ আগের মতো সহজও নেই। এখন সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো দক্ষতা, পরিকল্পনা এবং নিয়ম মেনে সঠিকভাবে আবেদন করা।

!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,

fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By