নির্বাচন ও গণভোটজনিত কারণে ফেব্রুয়ারির ১৯ দিন পর আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু হতে যাচ্ছে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মেলাকে ঘিরে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বলে দাবি বাংলা একাডেমির।
এবারে মেলা রমজানের মধ্যে পড়াতে পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেশের ৩২১ প্রকাশনা। তাদের দাবি ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে তাতে তার অংশ নেবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ৩২১ প্রকাশনীর যৌথ এক বিবৃতিতে তা জানানো হয়েছে। যদিও বাংলা একাডেমি নির্ধারিত সময়ে বইমেলা শুরু করতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
৩২১ প্রকাশকের ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বস্তরের সৃজনশীলপ্রকাশকদের যৌক্তিক দাবি ও বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে বাংলা একাডেমি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’, ‘আত্মঘাতী’ এবং প্রকাশনা শিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে মনে করি। বইমেলা কোনো সরকারি রুটিন ওয়ার্ক বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে মেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
বিবৃতিতে ঈদের পরে বইমেলার পেছনে ৩ কারণ উল্লেখ করা হয়। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির।
কারণগুলো উল্লেখ করে বলা হয়, ‘২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান শুরু হবে। রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট ঠেলে পাঠকরা মেলায় আসবেন না। পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক—উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। এছাড়া মেলার স্টলগুলোতে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করে। সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের পর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। আমরা আমাদের কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাই না।’
কারণে আরও বলা হয়, ‘গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও একটি অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি হারানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
বিবৃতি বলা হয়, ‘বাংলা একাডেমি এপ্রিলে ঝড়-বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ঈদের পরে মেলা হলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয়, সেই ঝুঁকি আমরা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু জেনেশুনে রোজার মধ্যে মেলা করে নিশ্চিত ব্যবসায়িক মৃত্যুর ঝুঁকি আমরা নেবো না।’
২০ ফেব্রুয়ারিতে থেকে মেলা শুরু হলে, তাতে অংশ নেবে না জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে অঙ্গীকার করছি যে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজিত হলে ব্যবসায়িক ও মানবিক ঝুঁকি নিয়ে তাতে অংশগ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজিত হলে আমরা তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করব এবং মেলা সফল করতে কর্তৃপক্ষের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
ঈদের পর মেলার পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ৩২১ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম প্রকাশনী, আগামী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, কাকলী প্রকাশনী, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, কথাপ্রকাশ, স্টুডেন্ট ওয়েজ, আফসার ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি., পুথিনিলয়, পাঠক সমাবেশ, বাংলাপ্রকাশ, শোভা প্রকাশ, আদর্শ, শব্দশৈলী, গতিধারা, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, নালন্দা, বাতিঘর, ভাষাচিত্র, মিজান পাবলিশার্স, অনিন্দ্য প্রকাশ, অক্ষর প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, অন্যধারা, পার্ল পাবলিকেশন্স, প্রথমা প্রকাশন, কলি প্রকাশনী, আকাশ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, প্রিয়মুখ প্রকাশনীসহ আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত, প্রথাগত অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে হবার কথা থাকলেও নির্বাচনের কারণে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শুক্রবার বেলা ১টা হতে বেলা ৩:০০টা ও শনিবার বেলা ১টা হতে বেলা ২টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);