ভূমিকা- পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক আদর্শিক রূপান্তরের সাক্ষী। একসময়ের কংগ্রেস শাসন, পরবর্তীকালে বামফ্রন্টের দীর্ঘ আধিপত্য, তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়—এই প্রতিটি পর্যায়ই রাজ্যের রাজনৈতিক চরিত্রে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এই প্রবন্ধে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আদর্শিক রূপান্তরের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে দেখা হবে কীভাবে ধীরে ধীরে বামপন্থী শ্রেণিরাজনীতির জায়গা দখল করেছে পরিচয়ভিত্তিক ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, এবং কোন কোন কারণ বিজেপির এই যুগান্তকারী উত্থানকে সম্ভব করেছে।
ধারাবাহিক রূপান্তর : একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পর্যালোচনা
স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক রূপান্তরকে চারটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে ভাগ করে দেখা যায়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ছিল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগ। ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে এই সময়ে আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের ভিত্তি স্থাপিত হয়। কিন্তু ১৯৬৭ সালের নির্বাচন, যাকে এক ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, কংগ্রেসের আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এরপর ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার যুগ আসে, যেখানে যুক্তফ্রন্ট সরকারের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হয়।
১৯৭৭ সালে শুরু হয় বামফ্রন্টের টানা ৩৪ বছরের শাসন, যা বিশ্ব গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে একটি দীর্ঘতম মেয়াদের উদাহরণ। জ্যোতি বসু ও পরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই শাসন ভূমি সংস্কার ও পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে সফল হলেও সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক বামফ্রন্টের ভিত্তি দুর্বল করে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং একটি মৌলিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস এনে দেয়, যেখানে তৃণমূল বামফ্রন্টকে সরিয়ে রাজ্যের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
এই ধারাবাহিকতাতেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে এসে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মানচিত্র পুনরায় রচিত হয়। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস—যারা একসময় এই রাজ্যের রাজনীতির নিয়ামক ছিল—তারা চরম প্রান্তিক হয়ে পড়ে। বহু নির্বাচনী কেন্দ্রে তাদের প্রভাব শুধুমাত্র ‘ভাঙন সৃষ্টিকারী’ (spoiler) পর্যায়ে নেমে আসে। এই শূন্যস্থানেই বিজেপি ক্রমশ নিজেদের দখল করে।
২০২৬ সালের নির্বাচনী ফলাফল : এক যুগান্তকারী পরিবর্তন
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আমেরিকার কণ্ঠ ও আনন্দবাজারের তথ্যানুযায়ী, মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি আসন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৮১টি আসন। এই ফলাফল তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের সূচনা করেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, নিজের আসন ভবানীপুরেও পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে জয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট পড়েছে অভূতপূর্ব ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এই ফলাফলকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, ঘটনাটি ‘অকল্পনীয়’ এবং ‘লোটাস ব্লুমস ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়কে অভিহিত করেছেন জনতার শক্তির বিজয় হিসেবে। কিন্তু কীভাবে একটি দল যা ২০২১ সালে মাত্র ৭৭টি আসনে সীমাবদ্ধ ছিল, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই ব্যবধানকে ২০৬ আসনে উন্নীত করল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা নানা কারণের উল্লেখ করছেন।
বিজেপির উত্থানের কারণ বিশ্লেষণ
একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব ও আদর্শিক শূন্যস্থান: পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তির অভাব ছিল। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ায় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কেউ ছিল না। সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের ভাষায়, “তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের সংগঠন অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে”। এই শূন্যস্থান দখল করেই বিজেপি ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি’ থেকে ধাপে ধাপে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে যায়।
‘বদলির রাজনীতি’ থেকে ‘পরিচয়ের রাজনীতি’তে রূপান্তর: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দ্বিমেরু কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ১৯৭৭ থেকে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল এবং কংগ্রেস ছিল প্রধান বিরোধী শক্তি। এই সময়ের রাজনীতি মূলত শ্রেণিভিত্তিক ও আদর্শিক বিভাজনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানের পর শ্রেণিরাজনীতির জায়গা দখল করতে শুরু করে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি। রাজবংশী, গোর্খা, মতুয়া, মুসলমান—বিভিন্ন গোষ্ঠী আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে সামনে আসে। এই বহুমাত্রিক ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি তৃণমূলের জন্য কার্যকর হলেও বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’-কেন্দ্রিক একত্ববাদী দর্শনের সঙ্গে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। বিজেপি সফলভাবে এই বিচ্ছিন্ন পরিচয়গুলোকে একক ‘হিন্দু’ পরিচয়ের ছাতার নিচে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে।
হিন্দুত্বের আবেদন ও সাংস্কৃতিক মেরুকরণ: বিজেপির উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ক্রমাগত সম্প্রসারণ। পশ্চিমবঙ্গের মতো ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্যেও হিন্দুত্ববাদী বার্তা দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি রাজ্যে দ্রুত তাদের ভোট ব্যাঙ্ক বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। একটি গ্রামীণ উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে—ঝাড়গ্রামের পাটাশিমূল গ্রামের বাসিন্দারা, যারা চিরকাল কমিউনিস্ট পার্টি করে এসেছেন, তারাও ধীরে ধীরে বিজেপির প্রতি ঝুঁকেছেন। এক প্রবীণ বাসিন্দার ভাষায়, “বাঁচতে যদি হয়, তাহলে বিজেপিই করতে হবে”। এই ধারণাই বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্রচারণার মূল ভিত্তি।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট: বিজেপির কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সিএএ-র মতো ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়—বিশেষ করে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা। ঐতিহাসিকভাবে যাদের সঙ্গে উচ্চবর্ণ হিন্দুদের দূরত্ব ছিল, তাদের মধ্যেও ‘গর্বিত হিন্দু’ পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। সিএএ এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীকরণ ও হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশে মুসলিম ভোটাররা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। তারা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। প্রায় ৮৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮৫টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনের মধ্যে ৭৫টিতে জয়লাভ করে। এই পরিসংখ্যান তৃণমূলের মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে। বিজেপি সুকৌশলে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ‘অনুপ্রবেশ’, ‘জনসংখ্যার পরিবর্তন’ ইত্যাদি ইস্যুতে প্রচারণা চালিয়ে হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করেছে।
বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া : ২০২৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক ছিল ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া, যেখানে প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘সংখ্যালঘু ও মতুয়াদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করলেও, বিজেপি একে ‘ভুয়া ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উপস্থাপন করে। এই প্রক্রিয়া বিজেপির পক্ষে এক ইস্যু হয়ে ওঠে এবং ফলশ্রুতিতে অনেক ভোটার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিকে সমর্থন জানান।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্তর বিরোধী মনোভাব (Anti-incumbency): তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের শেষভাগে ব্যাপক বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার অভিযোগে জনমনে পরিবর্তন আসে। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ঠিক একইভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধেও সেই বিরোধী মনোভাব বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
বিজেপির উন্নত কৌশল এবং স্থানীয় নেতৃত্ব: বিজেপির সাফল্যে তাদের কৌশলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০২১ সালের নির্বাচনে ব্যক্তিগত আক্রমণের কৌশল ব্যর্থ হলে ২০২৬ সালে তারা সেই কৌশল বদলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সরাসরি আক্রমণ না করে তারা ‘ব্যবস্থাগত সমস্যা’ হিসেবে শাসন, দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তার ইস্যুকে সামনে আনে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় নেত্রীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির মাঠপর্যায়ের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায় ৪০টি সভা ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বৈঠক পরিচালনা করেন।
‘কল্যাণ যুদ্ধ’ (Welfare War) এবং প্রতিশ্রুতির আকর্ষণ
বিজেপি তাদের সাফল্যে কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিকে এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তৃণমূলের লক্ষ্মীভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ১৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বিজেপি তাদের ‘ভরসার শপথ’ ইশতেহারে মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারী ভোটারদের মন জয় করে। এছাড়া সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন ও সব ধরনের ডিএ ব্যাকলগ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও সমর্থন তৈরি করে।
‘বাংলাদেশ ফ্যাক্টর’ এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। বিজেপি নেতারা দাবি করেন, ১৫ বছরের ‘অশাসন’ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের ইস্যু বাংলার মানুষকে পরিবর্তন চাইতে প্ররোচিত করেছে। এক বিশ্লেষক লিখেছেন: “মূলত একটি লাল (বামপন্থি) রাজ্যকে গেরুয়া রঙে বদলে দিতে একটি শক্তিশালী গল্পের প্রয়োজন ছিল, যা ব্যালট বক্সের মাধ্যমে এক ধরনের রঙিন বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে”। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি করে বিজেপি তাদের ‘নিরাপত্তা ও পরিচয়’-সচেতন ভোটারদের আরও সংহত করতে সক্ষম হয়।
উপসংহার- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি স্বাধীনতার পর একাধিক আদর্শিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ উদারপন্থী শাসন, বামফ্রন্টের শ্রেণিবিপ্লবী তত্ত্ব, তৃণমূলের ‘মা-মাটি-মানুষ’-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ—প্রতিটি শাসন ব্যবস্থাই ভিন্ন আদর্শে উজ্জীবিত ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচন সেই ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। একটি রাজনীতি যা একসময় শ্রেণি ও বর্ণনির্বিশেষে সমতাভিত্তিক বক্তৃতায় সমৃদ্ধ ছিল, তা পরিণত হয়েছে ধর্ম ও পরিচয়ের সংকীর্ণ মেরুকরণের এক অখণ্ড রণক্ষেত্রে। বামের লাল ও তৃণমূলের সবুজকে সরিয়ে গেরুয়া বিজেপি এখন বাংলার রাজনৈতিক দিগন্ত রঞ্জিত করেছে। এই রূপান্তর নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চরিত্রের সমাপ্তি বোঝায় না, বরং একটি নতুন বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা। এটি ভারতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। আগামী দিনে এই গেরুয়া শাসন কীভাবে শ্রেণি ও পরিচয়ের জটিল সমীকরণ সামাল দেয়, তা-ই দেখার বিষয়।
লেখক: ড. এবিএম রেজাউল করিম ফকির
সাবেক অধ্যাপক ও ভূতপূর্ব পরিচালক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ভূতপূর্ব অধ্যাপক, সুলতান ইদ্রিস শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া ও ভূতপূর্ব গবেষণা ফেলো, জাপান রাষ্ট্রভাষা ইনস্টিটিউট
(খোলা কলাম বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বিডি২৪লাইভ ডট কম- এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);