রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নে ঈদ-উল আযহার নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার সকালে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা দায়ের করেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩০ মে সকাল ৯টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের লোকজন হাসেম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে থেকে শাকিল মাহমুদ সুজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আধাঘণ্টা পর ভেল্লাবাড়ি ব্রিজের উপর থেকে মো. হাফিজুর রহমান পলাশ ও লিপু মৃধাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে জলিলপাড়া এলাকার মো. চাঁদ আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর স্ত্রী মোছা. আলেয়া বেগমকে মারপিট করা হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাকিল মাহমুদ সুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শাকিল মাহমুদ সুজন ও তাঁর পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় নির্বাচন ও নিজেদের গ্রুপ ভারী করতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাঁদের দলে আশ্রয় দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন। আহতরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) সমর্থক।
এই ঘটনার জের ধরে, ৩০ মে বিকেল ৩টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) ছেলে রনির নেতৃত্বে হাজরাপাড়া খলিল মোড় থেকে যুবদল নেতা মো. আক্তার হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একই সাথে অন্তর নামের আরো একজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এর আগে পৃথক দুটি স্থান থেকে মো. হানেফ, মো. জিলাল ও মো. আজাদ মণ্ডলকে মারপিট করে একই লোকজন।
আহতদের মধ্যে আক্তার হোসেন ও অন্তর গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের সমর্থক।
অপরদিকে আহত শাকিল মাহমুদ সুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের সমর্থক আহত আজাদ মণ্ডলের স্ত্রী রফেজা খাতুন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু), রনি খন্দকার, রনজু খন্দকার, মো. আরিফ শেখ, আলিম মণ্ডল, শামছুল খন্দকার, মো. সুমন মণ্ডল ও মো. শুভ খন্দকার।
এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) সমর্থক আহত রানা ইসলাম টিপু বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫-১৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- মো. ফজলু শেখ, মো. রাকিব মণ্ডল, মো. সোহান মণ্ডল, মো. আক্তার মণ্ডল, মো. জিলাল মণ্ডল, মো. সিদ্দিক মণ্ডল, মো. আজাদ মণ্ডল, মো. সাবু মণ্ডল, মো. দোলন মণ্ডল, মো. নজরুল শেখ, মো. রবিউল মিয়া ও মোহাম্মদ আলী।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);