সকল ধরণের নৌযান এবং নৌ টার্মিনাল ও নৌ বন্দরে নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে লঞ্চ-ফেরীর ক্যান্টিনে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে পাবলিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অধিক পরিমাণে সতর্কতামূলক সাইনেজ লাগানোর ও টার্মিনালের প্রচার মাইকে তামাক ও ধূমপান বন্ধের জন্য প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।
আজ ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, সকাল ১১.৩০ টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি-ডাস্ এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা’র যৌথ উদ্যোগে সচিব মহোদয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘নৌপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধূরী, এনডিসি’র সভাপতিত্বে এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর কারিগরী পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিপিডিসি’র চেয়ারম্যান (সাবেক সিনিয়র সচিব) জনাব হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার।
এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাহমিদা ইসলাম, ম্যানেজার, টোব্যাকো কন্ট্রোল, বাংলাদেশ, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস; সুশান্ত সিনহা, সিনিয়র রিপোর্টার, ৭১ টিভি। সভার বিষয়বস্তুর উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর সিনিয়র কারিগরী পরামর্শক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন। সভায় প্রদত্ত উপস্থাপনার উপর বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগমসহ মন্ত্রণালয়ের ৩ জন অতিরিক্ত সচিব, ৯ জন যুগ্মসচিব, ৪ জন উপসচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শিপ পার্সোনেল বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় অন্যন্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ডাস্ এর টীমলীড আমিনুল ইসলাম বকুল, টিসিআরসি’র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা, বাটা’র সদস্য সচিব সৈয়দা অনন্যা রহমান এবং ডাস্ এর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু প্রমূখ।
সভায় আয়োজক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে উপস্থাপনার মাধ্যমে উল্লেখ করা হয় যে, নৌ-পরিবহন খাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে ডাস্-এর দীর্ঘদিনের কাজের ফলস্বরূপ নৌযান ও টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর হতে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সরকারি নির্দেশনা (গভমেন্ট অর্ডার) জারি হয়। তবে বিদ্যমান কিছু প্রতিবন্ধকতার জন্য এই খাতকে ধূমপানমুক্ত করা সম্ভবপর হচ্ছেনা। ফলে নৌ পরিবহনে যত্রযত্র অবাধে ধূমপান ও তামাক সেবন, অবাধ বিক্রয় ও বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নৌ-পরিবহনে ধূমপান বন্ধ করার বিষয়টি খুব একটি প্রাধান্য পাচ্ছে না। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ও জোরালো দিক-নির্দেশনা না থাকায় তাদের অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ডাস্ এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় দুটি গবেষণার চিত্রও তুলে ধরা হয়। তন্মধ্যে ডাস্ গবেষণা ২০২৪ সালের একটি চিত্র যেখানে দেখা যায, নৌপরিবহনে শতকরা ২৫ ভাগ লোক ধূমপান করে থাকে যার দ্বারা অবশিষ্ট ৭৫ ভাগ লোক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় (সূত্র: লঞ্চ মালিক সমিতি) এবং টিসিআরসি’র সম্প্রতি একটি গবেষণার চিত্র যেখানে দেখা গেছে, শতকরা ৩৩ ভাগ লঞ্চ টার্মিনালে ধূমপানমুক্ত চিহ্ণ ছিল, ২০ ভাগ লঞ্চ টার্মিনালে ধূমপান নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক সাইনেজ ছিল যার সবগুলিই আইনানুযায়ী ছিল, শতভাগ লঞ্চ টার্মিনালে সরাসরি ধূমপানের ঘটনা ও ধূমপানের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, ৩৩ ভাগ দোকানের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র পাওয়া গেছে যার শতকরা ৫০ ভাগ এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হয়েছে।
সভা প্রধান তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ কার্যক্রমের আওতায় নৌপরিবহন ধূমপানমুক্ত করার পাশাপাশি কেউ যেন তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচারসহ অন্যান্য আইন বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ না করতে পারে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর নৌপরিবহনের একটি ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ হাতে নিয়েছে। কাজটি সম্পন্ন হলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এর মাধ্যমে নৌযান ও নৌ টার্মিনালে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করার কাজটি অনেকটা সহজ হয়ে আসবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);