ঠাকুরগাঁও –৩ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯ জন প্রার্থী এক মঞ্চে হাতে হাত রেখে স্থানীয় ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছে।
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার উন্নয়নে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করেছেন। ঠাকুরগাঁও–৩ (পীরগঞ্জ উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ৯ সংসদ সদস্য প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ মিনি স্টেডিয়ামে প্রার্থীরা ‘জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান’–এ এই অঙ্গীকার করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উদ্যোগে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হয়।
আয়োজকরা জানান, গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের পীরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি নসরতে খোদা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঠাকুরগাঁও–৩ আসনে বিভিন্ন দলের ১০ প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী মো. জাহিদুর রহমান বলেন, উন্নয়নের পূর্বশর্ত যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ। এলাকায় অনেক রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। কিছু রাস্তা বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ প্রায় গ্রামেই চলে গেছে। এখন এই এলাকায় দরকার শিল্পকারখানা স্থাপন করা। স্থানীয় এমন লোকজন নেই, যাঁরা এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করতে পারেন। বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য বাইরে থেকে উদ্যোক্তাদের দাওয়াত দিয়ে এখানে নিয়ে আসা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয়করণ করা হবে। সব দল মিলেমিশে কাজ করলে পীরগঞ্জ–রানীশংকৈলের উন্নয়ন হবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদের আলোকেই চলতে চাই। এই এলাকা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা এলাকায় হয়নি। এই এলাকার কৃষক তাঁর পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। কৃষকের ফসল আমাদের সরকার কিনে নেবে। সেসব ফসল সংরক্ষণে যে পরিমাণ গুদাম দরকার, তা তৈরি করা হবে। এই ফসল সরকার বাজারজাত করবে। এলাকার দুটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এখানে দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মিনি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল অবহেলিত এলাকা ছিল। এই এলাকাকে একটি অবস্থায় নিয়ে আসতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন কৃষিভিত্তিক কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নসহ এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা, তরুণদের সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মাদক থেকে দূরে রাখব।’
গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি জয়ী হলে পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল উপজেলায় তিনটি শিল্পকারখানা স্থাপন করব। অবহেলিত এলাকায় সেচের ব্যবস্থা কবর। রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করা হবে। তরুণ–যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আল আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন করব। এই আসনে যে দুটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো প্রাইভেট ক্লিনিকের চেয়েও উন্নত করা হবে। নারীদের দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনি বলেন, ‘নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করব। সীমান্ত এলাকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখানে স্থলবন্দর স্থাপন করার চেষ্টা করব।’
এ ছাড়া বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এস এম খলিলুর রহমান সরকার, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
সুজনের জেলা সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করা। প্রার্থীরা সুজনের অঙ্গীকারনামার সঙ্গে একমত হন। তাঁরা হাতে হাত মিলিয়ে অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের শপথ নেন।
মাসুম/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);