কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় এক বাদীকে তুলে নিয়ে মারধর, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিএমচর বেতুয়াবাজার এলাকায় অবস্থিত মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মোহাম্মদ রফিক (৪৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩৫), রফিকের ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিপা জান্নাত (৩০) এবং তার ছোটবোন শারমিন আক্তার (২৮)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রফিক বিচার ও প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চরপাড়ার বাসিন্দা রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে এসআই ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং খরচের কথা বলে রফিকের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন।
রফিকের দাবি, পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে এসআই ফারুক তার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। গত ৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের অন্তঃসত্ত্বা ভাবী শিপা জান্নাতকে তলপেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পাশাপাশি রফিকের স্ত্রী ও বোনকেও মারধর করা হয়।
রফিক আরও জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে বেলা ১১টার দিকে মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
অন্তঃসত্ত্বা শিপা জান্নাত বলেন, আমার ভাসুরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এসআই ফারুক আমার তলপেটে সজোরে লাথি মারেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিই। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ফারুক হোসেন ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, রফিক আদালতে মামলা করলেও বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ বন্ধ রাখার কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি। তাই অপর পক্ষকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রফিককে তদন্ত কেন্দ্রে আনা হয়েছিল।
তবে তিনি রাগের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথাও স্বীকার করেন। চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);