গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভারতীয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আড়াই বছরের এক শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে এক কিশোরী। পাষণ্ড এই হত্যাকাণ্ডের পর ওই কিশোরী নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে। শনিবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম আরিশা আক্তার জান্নাত। তার বাবা আলহাজ শেখ কাজের সুবাদে ওই এলাকার আবুল কালামের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। অন্যদিকে, ঘাতক কিশোরী ইসরাত জাহান মিম (১৪) ওই বাড়ির মালিক আবুল কালামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাত্র আড়াই বছরের এক শিশুকে কেন এবং কীভাবে প্রতিবেশী বড় বোনটি হত্যা করল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আরিশার মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে তিনি ঘরে বসে গল্প করছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর বাথরুমে গিয়ে দেখেন, একটি পানির বালতির ভেতর আরিশা ডুবে আছে।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে মৃত্যু বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বিকেলে যখন পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে, তখন তারা জানতে পারেন যে বাড়ির মালিকের মেয়ে মিম নিজেই থানায় গিয়ে আরিশাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিম জানিয়েছে, তার মা আরিশাকে নিজের সন্তানের মতো অনেক বেশি স্নেহ করতেন। বিষয়টি কিশোরী মিম সহজভাবে নিতে পারেনি। তার মনে হতে থাকে, আরিশার কারণে সে তার মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ক্ষোভ ও তীব্র ঈর্ষা থেকেই সে আরিশাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যায় এবং পানির বালতিতে চুবিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। মিম ভারতীয় জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোলের’ দারুণ ভক্ত ছিল। সে নিয়মিত এই সিরিয়ালটি দেখত। পুলিশ ধারণা করছে, কীভাবে মানুষকে হত্যা করে তথ্য গোপন করতে হয় বা হত্যার কৌশল কী হতে পারে, সেই ধারণা সে ওই সিরিয়াল থেকেই পেয়েছিল। সিরিয়াল দেখার নেশাই তাকে এমন একটি নৃশংস কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার বিকেলে ওই কিশোরী নিজেই থানায় এসে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঈর্ষা ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এই কাজ করেছে বলে জানিয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত কিশোরীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একটি অবুঝ শিশুকে এমন পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে অপরাধমূলক অনুষ্ঠান কিশোর মনে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনা তারই এক নিষ্ঠুর প্রমাণ।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);