মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ৩৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো থেকে গ্রামের ধনী গরিবসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো বিভিন্ন সেবা পেয়ে থাকেন। তবে গত ৫ মাস ধরে নিয়মিত ঔষুধ সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের মানুষগুলো। ক্লিনিক গুলোতে কোন ঔষুধ নেই।রোগীরা যাচ্ছেন আর ফিরে আসছেন। তবে অধিকাংশ রোগীকে মুখে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তবে কবে নাগাদ ঔষুধ আসবে তারা জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে ঔষুধ না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো এমনটাই বলছেন ওষুধ নিতে আসা ভুক্তভোগীরা।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক সূত্র জানায়,উপজেলায় মোট ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।আশা করছি অতি দ্রুত ঔষুধ সরবরাহ শুরু হবে। তখন সমস্যা কেটে যাবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকা দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এক ধরনের অলস সময় কাটাচ্ছেন। তেমন কোন রোগীর দেখা নেই। মাঝে মাঝে কয়েকজন রোগী আসছেন ঔষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বর্তমানে ক্লিনিকগুলোতে কোন ঔষুধই পাচ্ছেন না বলে জানান চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের মানুষ সাধারণত কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ পেয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঔষুধ না থাকাই চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তারা। কারণ এই কমিটি ক্লিনিক গুলো থেকে বিনামূল্যে অনেক অসহায় পরিবার চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। ঔষুধ সরবরাহ না থাকায় তারা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে সেবা ফিরে আনার জোর দাবি জানান তারা।
ঔষুধ নিতে আসা সানোয়ার খা বলেন, ওষুধ নিতে এসেছি কিন্তু ওষুধ পাচ্ছি না।যারা এই ক্লিনিকের দায়িত্ব আছে তারা বলছেন ওষুধ নেই। এখান থেকে ভালো ধরনের সেবা পেতাম এখন সে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমরা। তাই আমাদের দাবি দ্রুত এই কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ঔষুধ সরবরাহ করা হোক।
ওষুধ নিতে আসা ওয়াজেদ আলী বলেন, অনেকে ওষুধ নিতে আসেন কিন্তু কর্মকর্তা বলেন ওষুধ নেই। কেন ওষুধ আসে না তা আমরা জানি না। যদি এখানে ওষুধ গুলো পাওয়া যেত তাহলে অনেক গরিব মানুষের উপকার হতো। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ অতি দ্রুত যেন কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ওষুধগুলো সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা মফিজা খাতুন বলেন, আমরা এখানে জ্বর,ঠান্ডা,কাশি,আমশায় সহ সব ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে পেতাম।দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ পাচ্ছি না।ওষুধ নিতে আসলেই বলে ওষুধ নাই।আর সরকারি ওষুধ গুলো খুব ভালো, খেলে দ্রুত কাজ হয়।প্রতিদিন মানুষ আসে আর ঘুরে চলে যায়।কতদিন ঘুরতে হবে জানি না।আমরা গরীব মানুষ বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে ওষুধও কিনতে পারি না।তাই এখানে আসতে হয়।
উপজেলার রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা গত ৫ মাস ধরে কোনো ওষুধ পাইনি। প্রতিদিন রুগী আসছে আর ফেরত যাচ্ছে।বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর ওষুধ কবে পাবো তাও জানিনা।সাধারণ গরিব মানুষগুলো এখান থেকে ওষুধ নিয়ে অনেক উপকার পায়।কোন ওষুধ এখন আর তারা পাচ্ছে না।এতে আমাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
বেতবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জিন্নাতুন নেছা বলেন, চার মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।আসবে আসবে শুনছি কিন্তু ওষুধ আসছে না।বিভিন্ন রোগী আসছে আর ঘুরে যাচ্ছে।ছোট ছোট শিশু রোগী আসছে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা আসছেন তাদেরকে গর্ভকালীন সময়ে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এক ধরনের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।কোন রোগী আসছে না।নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে।আমাদের এখানে টিউবওয়েল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে।বিভিন্ন বাড়ি থেকে পানি নিয়ে এসে খেতে হয়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাসুদুর রহমান বলেন, প্রায় চার মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে শুধু আয়রন বড়িটিই রয়েছে।অন্য কোন ওষুধ নেই।আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।আশা করছি অতি দ্রুত কমিউনিটি ক্লিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ হবে এবং রোগীদের ভোগান্তিও দূর হবে।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);