ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা শুরু করেছে—এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেও বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টরা সবাই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে দাবি করেন তিনি।
জন কেরি বলেন, “ওবামা না বলেছিলেন, বুশ না বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছিলেন। আমি সেই আলোচনাগুলোর অংশ ছিলাম।”
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পথে না গিয়ে বরং কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছিল, কারণ তারা মনে করতেন সব বিকল্প যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এসব যুদ্ধ থেকে বড় শিক্ষা হলো—যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলা উচিত নয়, তারপর তাদের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠানোর আহ্বান জানানোও ঠিক নয়।”
জন কেরির এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ লিখেছে, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ওবামা, বুশ এবং বাইডেনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সবাই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, সেখানে (ইরানে) শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং মানুষ জেগে উঠবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, তার কিছুই ঘটেনি।’
নেতানিয়াহুর ‘কঠিন অপপ্রচার’
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে—কীভাবে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালাতে রাজি করিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু জোরালোভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন, ইরান এখন শাসন পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান শেষ পর্যন্ত ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটাতে পারে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে।’ পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ আগ্রাসনের সবুজসংকেত দেন।
জন কেরি বলেন, নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাটি ছিল কেবল একটি ‘ভবিষ্যদ্বাণী’। দেশটির দখল নেওয়া বা শাসন পরিবর্তনের যে দাবি তিনি করেছিলেন, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভ্যান্সের উত্তপ্ত ফোনালাপ
আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। ফোনে আলাপকালে ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আশাবাদী বক্তব্যের জন্য তাকে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে ভ্যান্স তাকে চেপে ধরেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টিকে খুব সহজ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সেসব বক্তব্যের ব্যাপারে অনেক বেশি বাস্তববাদী ও সতর্ক ছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);