অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই লেনের প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার।
বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী লেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই সংসদ সদস্য প্রকল্পের একাংশ উদ্বোধন হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। ফলে টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে তুরাগ নদ পারাপার করা যাবে।
এক্সপ্রেসওয়ের অংশবিশেষ চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছেন, সড়কটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যানজট ও যাতায়াতের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ আশুলিয়ার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজের গতি ছিল ধীর।
জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ। দ্বিতীয় সংশোধনের পর প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন এবং নতুন নকশায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তৃতীয় তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ।
তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আজ যে সার্ভিস সেতুগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি