ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর একমাত্র ভরসা কাঠের নৌকা। সীমান্তবর্তী নদীপথ পেরিয়ে নৌকায় করেই মরদেহ বাংলাদেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তা সম্ভব হয় দুই দেশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের ধর্মগড় ও জগদল সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ বাংলাদেশে আসে একমাত্র কাঠের তৈরি নৌকা যোগে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আইজুল সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর পর তার স্ত্রী ও সন্তানরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। জীবিকার তাগিদে তারা পরে ঢাকায় চলে যান বলে জানান প্রতিবেশীরা।
একইভাবে, কলোনীপাড়া এলাকার জিন্নাত নাগর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া এরশাদসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে একই সীমান্ত এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারত থেকে বাংলাদেশে মরদেহ ফিরিয়ে আনার কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন রাণীশংকৈলের নাগর নদীর নৌকার মাঝি আব্দুর রহমান। বিজিবির তত্ত্বাবধানে পতাকা বৈঠক শেষে তিনি নৌকাযোগে মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
মাঝি আব্দুর রহমান বলেন, আমার নৌকায় অনেক মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। সম্প্রতি ফতেপুর এলাকার এক ব্যক্তির মরদেহও আনতে হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই খুব কষ্টের। কিন্তু দায়িত্বের অংশ হিসেবেই কাজটি করতে হয়।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, শুধু মরদেহ ফিরিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা রোধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের আর্থিক পুনর্বাসন, সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি নিহত হলে বিজিবি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তার সুযোগ রয়েছে। কোনো পরিবার যদি এখনো সহযোগিতা না পেয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমাদের জানালে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);