খুলনায় ১৬ বছর বয়সী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যা করেছেন তার বাবা-মা। মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। এরপর তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় তিন থেকে চারটি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যার পর বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীর বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);