চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য (এমপি) ঘোষণা করে অবশেষে গেজেট জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের পরপরই তার শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকারের কার্যালয়ে সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব। এসময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
আদালতের রায়, দূর হলো বাঁধা :
আজ দুপুরে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় ঘোষনার পর সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি যে আদেশ দিয়েছিল, তা অবৈধ এবং তার প্রার্থিতা বৈধ ছিল বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। ফলে তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ নিতে আইনগত বাধা নেই।’
যে কারণে আটকে ছিল শপথ গ্রহণ :
গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । সেই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্রটি গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। তবে এই আবেদন নিয়ে ইসিতে আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এই আপিল করেন। ইসি আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গত ১৮ জানুয়ারি রায় দেয় । ফলে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।
তবে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। লিভ টু আপিলটি মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের থেকে মনোনীত ফটিকছড়ি আসনের সেই প্রার্থী। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্য তালিকায় ওঠে গত ২১ জুন। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই শুনানি শেষে আজ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
বাপ্পি/সা.এ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);