প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে রওনা হয়েছেন। রোববার বিকেল তিনটার দিকে তিনি কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা মূলত দুই দিনব্যাপী।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় তিনি চীনের ডালিয়ানে পৌঁছাবেন। এরপর টানা কয়েক দিনের কর্মসূচিতে চীন সফর চলবে। ২৩ জুন তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)–এর সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৪ জুন তিনি সামার দাভোসের মূল অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল”। সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ওই দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি ট্রেনযোগে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান করবেন।
২৫ জুন বেইজিংয়ে তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগ, চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি আলাদা আলাদা বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে।
একই দিনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম”-এ তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন। সেখানে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরা হবে।
এরপর বিকেলে তিনি চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU), চুক্তি, অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৬ জুন সফরের শেষ দিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। একই দিনে তিনি বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
সফরের অংশ হিসেবে পানি ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, এবং চীনের ঘোষিত বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এসব আলোচনা ভবিষ্যতে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
এছাড়া মালয়েশিয়া সফরের সময় বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে এবং আসিয়ান অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সমর্থনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে আলোচনায় থাকবে।
সব মিলিয়ে এই সফরকে ঢাকা-বেইজিং ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);