বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলা থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা শহরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন— বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী (৩৫)। তিনি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত দুই শিশু হলো তার মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করতে গিয়ে তৃতীয় তলার “খাকদোন-৩” ও “খাকদোন-৪” নম্বর কক্ষের ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি দ্রুত ডাকবাংলো কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, “খাকদোন-৩” নম্বর কক্ষে বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাসের মরদেহ পাওয়া যায়। ওই কক্ষ থেকে একটি ঘুমের ওষুধের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ট্যাবলেট ব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। অপরদিকে “খাকদোন-৪” নম্বর কক্ষের বিছানার ওপর ইতি রানী ও তার ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা।
বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইতি রানী ও তার স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, ঋণের চাপ ও পারিবারিক অস্থিরতার কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);